ফিফা ফাইনালের মঞ্চে সুরের ইন্দ্রজাল! বিটিএস-শাকিরা-বিবারের পারফরম্যান্সে কাঁপল নিউইয়র্ক!

ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই কেবল লড়াই নয়, এবার তা হয়ে উঠল বিনোদন ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত তারকাদের পারফরম্যান্স সাক্ষী থাকল কোটি কোটি দর্শক। ১৬ বছর পর আর্জেন্টিনার স্বপ্নভঙ্গ করে স্পেনের বিশ্বজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণকে আরও স্মরণীয় করে তুলল এই তারকাখচিত আয়োজন।
বিশ্বমঞ্চে বিটিএস-এর ম্যাজিক:
এবারের সমাপনী অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার সুপারস্টার ব্যান্ড ‘বিটিএস’ (BTS)। স্টেডিয়ামে তাদের পারফরম্যান্স যেন এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছিল। তাদের বিখ্যাত গান ‘ডায়নামাইট’-এর তালে কেঁপে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিশ্বজুড়ে ‘আর্মি’ (ARMY)-দের উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো। অনেক ভক্তই একে কে-পপ (K-pop) জগতের জন্য ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ফিরলেন জাস্টিন বিবার:
দীর্ঘ বিরতির পর জাস্টিন বিবারকে এভাবে বিশ্বমঞ্চে ফিরতে দেখে আপ্লুত ভক্তরা। তাঁর গিটারের সুর আর ‘এভরিথিং হালেলুয়াহ’ গানে মুগ্ধতা ছড়িয়ে পড়ে স্টেডিয়ামজুড়ে। দেড় বিলিয়ন মানুষের সামনে তাঁর এই পরিবেশনা প্রমাণ করে কেন তিনি আজও বিশ্বসংগীতের আইকন।
শাকিরা ও অন্যদের ঝলক:
ফুটবল উৎসব মানেই শাকিরার উপস্থিতি। কলম্বিয়ান এই পপ কায়দা আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাকে বিশ্বকাপের ‘সমার্থক’ বলা হয়। শাকিরা ছাড়াও এদিন পারফর্ম করেছেন ম্যাডোনা, জেনিফার হাডসন, রবি উইলিয়ামস, লরা পাউসিনি, পোস্ট ম্যালোন এবং নিকোল শেরজিংগার। মঞ্চে টম ক্রুজের উপস্থিতি ও বিশেষ বক্তৃতা দর্শকদের অবাক করে দেয়।
সুপারবোল স্টাইল ‘হাফটাইম শো’:
ফিফার ইতিহাসে এই প্রথমবার ফাইনাল ম্যাচে আয়োজন করা হয় বিশাল এক ‘হাফটাইম শো’। যা অনেকাংশেই বিখ্যাত আমেরিকান সুপারবোল শো-এর আমেজ মনে করিয়ে দিয়েছে। খেলা শুরুর আগে ও বিরতিতে বিশ্বমানের এই বিনোদনের প্রশংসা করছেন দর্শক ও সমালোচকরা।
গ্যালারিতে চাঁদের হাট:
শুধু মাঠ নয়, গ্যালারিতেও ছিল চাঁদের হাট। ফাইনাল উপভোগ করতে মাঠে উপস্থিত ছিলেন বিয়ন্সে, জে-জি, কাইলি জেনার, টিমোথি শ্যালামে এবং ম্যাট ড্যামনের মতো হলিউডের নামিদামি তারকারা। ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদিনহো ও রোনাল্ডোর উপস্থিতিও দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দিয়েছে।
ফুটবল আর বিনোদনের এই অনবদ্য সংমিশ্রণ ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-কে ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় করে রাখবে, তা বলাই বাহুল্য।