২১ জুলাই কি উত্তরাধিকার হারাচ্ছেন মমতা? তৃণমূলের অন্দরের কোন্দল নিয়ে বিস্ফোরক কাজী আব্দুর রহিম

ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের শাসকদলের অন্দরের ভাঙন যেন প্রকাশ্যে। একদিকে কালীঘাট শিবির, অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় শিবির—দলের এই দ্বিধাবিভক্তি এখন ২১ জুলাইয়ের মঞ্চেও প্রভাব ফেলেছে। শহিদ দিবসের উত্তরাধিকার হারানোর আশঙ্কার মাঝেই তৃণমূলকে ‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত’ নিয়ে বিঁধলেন বাদুড়িয়ার প্রাক্তন বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম।
‘পাপের প্রায়শ্চিত্ত’ ও অভিষেকের বিরুদ্ধে তোপ:
কংগ্রেসে ফিরে যাওয়া প্রাক্তন বিধায়ক কাজী আব্দুর রহিম এদিন তৃণমূলকে আক্রমণ করে বলেন, “কংগ্রেসের ২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাইজ্যাক করেছিলেন। আজ সময় এসেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে সেই উত্তরাধিকার হাইজ্যাক হয়ে যাচ্ছে। পাপ করলে তার প্রায়শ্চিত্ত করতেই হয়।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি সরাসরি তোপ দেগে তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অনেক কষ্ট করে দল গড়েছিলেন। কিন্তু ভাইপোর অত্যাচার, দুর্নীতি আর তোলাবাজিতে আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পূর্ণ অসহায়। অভিষেকের কাছে দল নয়, টাকাই সবকিছু।”
পঞ্চায়েত ভোটের ‘আসল রূপ’:
প্রাক্তন বিধায়ক দাবি করেন, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত ভোটেই তিনি অভিষেকের আসল রূপ দেখেছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “জেলা সফরে বেরিয়ে অভিষেক টাকার বিনিময়ে টিকিট বিলি করেছিলেন। আমি টাকা দিইনি, তাই টিকিট পাইনি। সেদিনই বুঝেছিলাম, অভিষেকের কার্যকলাপের ফল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একদিন না একদিন ভুগতেই হবে।”
বিজেপির কটাক্ষ:
তৃণমূলের এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিজেপি। বসিরহাট জেলা কমিটির সদস্য বিশ্বজিৎ পালের কথায়, “বাংলায় এখন তৃণমূল বলে আর কিছু নেই। এটা এখন একটি ‘অদৃশ্য আত্মা’। কিছুদিনের মধ্যে সেই আত্মাও আর দেখা যাবে না। তৃণমূল কে কোথায় ২১ জুলাই পালন করছে, তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। মানুষের জন্য কাজ করাই বিজেপির আসল লক্ষ্য।”
২১ জুলাইয়ের মঞ্চকে কেন্দ্র করে এই রাজনৈতিক সংঘাত ও তৃণমূলের অন্দরে চলা ভাঙন রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন কোন সমীকরণ তৈরি করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।