ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা মানেই কি নাগরিকত্ব বাতিল? বড় বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার!

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া মানেই ভারতীয় নাগরিকত্ব চলে যাওয়া নয়। সম্প্রতি ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে এই স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনী তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানেই নাগরিক পরিচয় হারানো নয়।
নাগরিকত্বের ভিত্তি কী?
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ভারতের নাগরিকত্ব নির্ধারণের একমাত্র ও চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি হলো ‘ভারতীয় নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫’। এই আইনের অধীনে জন্ম অনুযায়ী নাগরিকত্বের তিনটি স্তর রয়েছে:
১ জুলাই ১৯৮৭-এর আগে জন্মগ্রহণকারী: এই সময়ের আগে ভারতে জন্ম নেওয়া যেকোনো ব্যক্তি জন্মগতভাবেই ভারতের নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন। তাঁদের জন্য বাবা-মায়ের নাগরিকত্বের অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন নেই।
১ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ২ ডিসেম্বর ২০০৪-এর মধ্যে জন্মগ্রহণকারী: এই সময়ের মধ্যে যারা জন্মেছেন, তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নিজের জন্ম সনদের পাশাপাশি বাবা বা মায়ের মধ্যে যেকোনো একজনের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দিতে হবে।
২ ডিসেম্বর ২০০৪-এর পরে জন্মগ্রহণকারী: এই ক্ষেত্রে নিয়ম সবচেয়ে কঠোর। আবেদনকারীকে নিজের নথির পাশাপাশি বাবা ও মা—উভয়কেই ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণ করতে হবে।
কেন এই কঠোর পদক্ষেপ?
ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ বা SIR-এর এই জটিল ও সাহসী উদ্যোগ সম্পর্কে জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “কেউ না কেউ তো এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসত। এর জন্য যথেষ্ট সাহস ও ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন ছিল।” তিনি হিন্দিতে মজা করে বলেন, “থোড়া দিল চাহিয়ে, জিগর চাহিয়ে।”
পরিশেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য সাধারণ নাগরিকদের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থনের প্রশংসা করেন। নির্বাচন কমিশনের এই বক্তব্য নাগরিকত্ব নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে থাকা দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও সংশয় নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।