অনশনের ২১ দিনে হাসপাতালে সোনম ওয়াংচুক! স্ত্রী গীতাঞ্জলির তীব্র ক্ষোভ, কী অবস্থা আন্দোলনকারীর?

লাগাতার ২১ দিনের অনশন। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তরমন্তরে আন্দোলনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে শনিবার সকালে তড়িঘড়ি হাসপাতালে ভর্তি করল দিল্লি পুলিশ। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ দেখিয়ে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি। তবে পুলিশের এই ধরপাকড় ও হাসপাতালে স্থানান্তর নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

হাসপাতালে কেমন আছেন সোনম?
শনিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটে সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন অনশন ও জলশূন্যতার কারণে তাঁর শরীর মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। যদিও বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, তবুও শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফেরাতে তাঁকে আপাতত নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আন্দোলন চলাকালীন তাঁর ওজন ৮ কেজিরও বেশি হ্রাস পেয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

পরিবারের তীব্র আপত্তি:
সোনম ওয়াংচুককে হাসপাতালে ভর্তির খবর পেয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে অংমো। তাঁর দাবি, পরিবারের অনুমতি ছাড়াই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। গীতাঞ্জলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “আমার, তাঁর পরিবারের এবং এতদিন ধরে তাঁর স্বাস্থ্যের দেখভাল করা চিকিৎসকদের সম্মতি ছাড়া সোনমকে মুখে বা শিরার মাধ্যমে (ইনট্রাভেনাস) কোনো ওষুধ বা পুষ্টি দেওয়া যাবে না।” সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে তিনি একে অধিকার ক্ষুণ্ণ করার শামিল বলে অভিযোগ করেছেন।

কেন এই পদক্ষেপ?
দিল্লি পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারী ওয়াংচুকের শারীরিক পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হচ্ছিল। তাঁর প্রাণ বাঁচানোর লক্ষ্যে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই এই স্থানান্তর করা হয়েছে। এর আগে দুদিন আগেই আদালত কেন্দ্রকে নির্দেশ দিয়েছিল, ওয়াংচুকের জীবন বাঁচাতে যা যা প্রয়োজন তার সবই যেন দ্রুত করা হয়।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট:
গত ২৮ জুন থেকে যন্তরমন্তরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার দাবিতে অনশনে বসেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। তাঁর এই দীর্ঘ লড়াই এখন দেশের নজর কেড়েছে। কিন্তু আন্দোলনরত অবস্থায় তাঁকে এভাবে তুলে নিয়ে যাওয়ায় এখন গোটা দেশেই তৈরি হয়েছে নতুন জল্পনা।

বর্তমানে পুরো বিষয়টি আদালতের হস্তক্ষেপ ও পরিবারের সম্মতির ওপর নির্ভর করছে। এখন দেখার, এই পরিস্থিতির পর সোনম ওয়াংচুক তাঁর আন্দোলন চালিয়ে যান কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *