মমতার হাত ছাড়লেন মদন! তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা কামারহাটির বিধায়কের, তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি

বাংলার রাজনীতিতে বুধবার দুপুরে এক নাটকীয় মোড়। দীর্ঘদিনের মমতা-অনুগত সৈনিক তথা কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেন। নেত্রীর হাত ছাড়ার এই সিদ্ধান্ত শাসকদলের অন্দরে চূড়ান্ত অস্বস্তি এবং রাজ্য রাজনীতিতে বড়সড় জল্পনা তৈরি করেছে।
কীভাবে ঘটল এই নাটকীয় ঘটনা?
বুধবার দুপুরে আকস্মিকভাবেই বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে হাজির হন মদন মিত্র। পরনে সাদা পাঞ্জাবি ও চোখে কালো রোদচশমা—মদন মিত্রের এই উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে বিধানসভার অলিন্দে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। ঋতব্রতের পাশে বসেই তিনি ঘোষণা করেন, কালীঘাট তথা তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছেন এবং সব পদ থেকে পদত্যাগ করছেন।
রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নচিহ্ন
মদন মিত্র দীর্ঘকাল তৃণমূলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলের অন্যতম ‘কালারফুল’ নেতা হিসেবে তাঁর জনপ্রিয়তাও তুঙ্গে। তাই ঠিক কী কারণে তিনি হঠাৎ বিরোধী দলনেতার ঘরে গিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের ডেরায় গিয়ে তাঁর এই ঘোষণা আদতে কি বিজেপিতে যোগদানের পূর্বাভাস, নাকি দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ—তা নিয়ে সরগরম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট।
শাসকদলের অস্বস্তি
মদন মিত্রের এই পদত্যাগ তৃণমূলের কাছে বড় ধাক্কা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি দলের বিভিন্ন নেতা-নেত্রীদের ইডি-র নোটিশ এবং দলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নানাবিধ চর্চা চলছিল। তার মধ্যেই মদন মিত্রের মতো একজন হেভিওয়েট নেতার আচমকা এই পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল।