বারুইপুর গণধর্ষণ কাণ্ড: শোকের মাঝে পরিবারের পাশে মুখ্যমন্ত্রী, কারা দপ্তরে চাকরি পেলেন নিহতের বাবা

বারুইপুরের সূর্যপুরে ১১ বছরের এক নাবালিকা স্কুল ছাত্রীকে গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা রাজ্য। শোকস্তব্ধ ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারি সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে নিহত ছাত্রীর বাবাকে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কারা দপ্তরে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হলো। পাশাপাশি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে সরকারি আর্থিক সহায়তাও।

প্রশাসনের কড়া নজরদারি ও পদক্ষেপ
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকেই সরকার ও প্রশাসন অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় চারজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ঘটনাস্থলে অপরাধের পুনর্নির্মাণ (Reconstruction) করার সময় পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে এক অভিযুক্তের মৃত্যু হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ও এলাকাবাসীর দাবি মেনে, শনিবারই সূর্যপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়া গোটা এলাকাকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

মুখ্যমন্ত্রীর অঙ্গীকার: ‘দৃষ্টান্তমূলক বিচার’
নিহত ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, পুরো বিষয়টি তিনি ব্যক্তিগতভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই মামলার ক্ষেত্রে ‘কাস্টডি ট্রায়াল’ এবং ‘কনভিকশন এক্সিকিউশন’-এর মাধ্যমে এমন বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে, যা ভবিষ্যতে একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এছাড়া মৃত ছাত্রীর স্মরণে তার স্কুলে একটি লাইব্রেরি তৈরির আবেদনও জানানো হয়েছে, যা নিয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

পরিবারের বর্তমান অবস্থা
নিহত ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, সরকারি সহায়তায় তারা কৃতজ্ঞ। তবে শোকের ভারে এখনও বিপর্যস্ত তিনি। তিনি জানিয়েছেন, মানসিকভাবে কিছুটা থিতু হলেই তিনি কারা দপ্তরের কাজে যোগ দেবেন। মুখ্যমন্ত্রী নিজেই এই সহায়তা প্রক্রিয়াটি ব্যক্তিগতভাবে মনিটরিং করছেন বলে জানিয়েছেন পরিবার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *