শেষকৃত্যের আগেই বাড়ি ফিরলেন মৃত ব্যক্তি! দিওয়ালির মতো আনন্দ পরিবারে, জানুন অবিশ্বাস্য ঘটনা

কল্পনা করুন, বাড়ির ছেলের মৃতদেহ শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার জন্য সাজানো হচ্ছে, হঠাৎ ফোন এল—সেই ছেলেই জীবিত এবং বাড়ি ফিরছে! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সাক্ষী থাকল সতনজানার কুমার পরিবার। ভুল দেহ শনাক্তকরণের জেরে এক মর্মান্তিক শোক মুহূর্তে রূপ নিল পরম স্বস্তিতে।
কী ঘটেছিল সেই রাতে?
২৪ বছর বয়সী বিশাল কুমার পেশায় একজন নিরাপত্তা রক্ষী। শনিবার কাজে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি তিনি। বারবার ফোন করেও যোগাযোগ করতে না পেরে স্থানীয় পুলিশ পোস্টে নিখোঁজ ডায়েরি করে পরিবার। পরদিন সকালে পাঞ্জাবে থাকা বিশালের বোনের কাছে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একটি ফোন আসে। জানানো হয়, মর্গে একটি অজ্ঞাত পরিচয় দেহ রাখা আছে।
ভুল শনাক্তকরণে বিপত্তি
হাসপাতালে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেহটি দেখেন। পেটের ক্ষতচিহ্ন ও চোখের আঘাত হুবহু বিশালের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় পরিবার নিশ্চিত হয় যে, দেহটি বিশালেরই। শোকস্তব্ধ পরিবার চোখের জলে দেহটি নিয়ে শেষকৃত্যের জন্য সতনজনা থেকে সাতওয়ারি এলাকার দিকে রওনা হয়।
মৃতের পুনরুত্থান!
ঠিক যখন পরিবার শোকের চরম মুহূর্ত কাটাচ্ছিল, তখনই বিশালের এক বন্ধুর ফোন আসে। তিনি জানান, বিশাল সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং বাড়ি ফিরছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিশালকে অক্ষত অবস্থায় বাড়ি ফিরতে দেখে পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। তাঁদের বিশ্বাসই হচ্ছিল না, যাকে মৃত ভেবে শেষ বিদায়ের আয়োজন করেছিলেন, তিনি চোখের সামনে দাঁড়িয়ে!
হাসপাতালের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন
ঘটনার পর ভুল বুঝতে পেরে পরিবার সেই অজ্ঞাত পরিচয় দেহটি পুনরায় হাসপাতালে ফিরিয়ে নিয়ে যায় এবং এই ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নেয়। তবে, এই ঘটনাটি স্বাস্থ্য পরিষেবার গাফিলতি ও মৃতদেহ শনাক্তকরণ পদ্ধতি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। একটি পরিবারের জীবনে এমন চরম বিপর্যয় এবং ভুল বোঝাবুঝির দায় কার?—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে স্থানীয় মহলে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: মৃতদেহ শনাক্তকরণে হাসপাতালের তরফে আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল, এমনটাই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। এই ঘটনাটি একইসঙ্গে শোক এবং অদ্ভুত স্বস্তির এক মাইলফলক হয়ে থাকবে।