১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল! আসন সংখ্যা ৫০% বাড়ানোর শর্ত দিলেন সুপ্রিয়া সুলে

কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে এখন তুঙ্গে জল্পনা। লোকসভার আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও সীমানা নির্ধারণ (Delimitation) সংক্রান্ত এই বিল ঘিরে নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন এনসিপি (এসপি) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, প্রতিটি রাজ্যে লোকসভার আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ানোর গ্যারান্টি না থাকলে, তাঁর দল এই বিল সমর্থন করার কথা ভাববে না।

মহারাষ্ট্রের নিরিখে সুপ্রিয়ার সমীকরণ
সুপ্রিয়া সুলে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত ফর্মুলা অনুযায়ী প্রতিটি রাজ্যে আসন সংখ্যা ৫০ শতাংশ বাড়ালে মহারাষ্ট্রের বর্তমান ৪৮টি লোকসভা আসন বেড়ে ৭২টি হবে। তিনি বলেন, “যদি সব রাজ্যে সমান অনুপাতে আসন বৃদ্ধি করা হয়, তবেই আমরা এই বিলের পক্ষে সায় দেব।” বিলটি বাদল অধিবেশনে পেশ হওয়ার পর খুঁটিয়ে দেখে তাঁর দল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

জল্পনায় ইতি, এমভিএ-তেই থাকছেন সুপ্রিয়া
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এনসিপি (শরদ পাওয়ার)-এর যোগদানের গুঞ্জনকে ‘চায়ের কাপে তুফান’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সুপ্রিয়া। তিনি স্পষ্ট করেছেন, তাঁদের দল বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে যাচ্ছে না। বরং, বিরোধী ‘মহাবিকাশ আঘাড়ি’ (MVA) জোটেই তারা অটুট থাকছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে শরদ পাওয়ারের দলের জেতা ৮টি আসন বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সংবিধান সংশোধনী বিল পাসের জন্য সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন পেতে এখন কেন্দ্র মরিয়া হয়ে উঠেছে।

কেন এই বিল নিয়ে বিতর্ক?
সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই নতুন সীমানা নির্ধারণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। বর্তমানে লোকসভার ৫৪৩টি আসন বেড়ে ৮৫০টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ায় জনসংখ্যার অনুপাতে আসন বণ্টনের ফলে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

দক্ষিণী রাজ্যগুলোর আসন সংখ্যা কমে যেতে পারে—এই আশঙ্কায় সুপ্রিয়া সুলে প্রতিটি রাজ্যকে সমান অনুপাতে আসন বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন, যাতে কোনো রাজ্যই রাজনৈতিকভাবে বঞ্চিত না হয়। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্র সরকার সুপ্রিয়ার এই শর্ত মেনে কোনো লিখিত প্রস্তাব আনে কি না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *