‘মুখ্যমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত পরম সৌভাগ্য’, নিরাপত্তা ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞ মীরা ভট্টাচার্য

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নজিরবিহীন সৌজন্যের সাক্ষী রইল রাজ্য। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মৃত্যুর পর পাম অ্যাভিনিউয়ের বাসভবন থেকে যে নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল, তা পুনরায় বহাল করার সিদ্ধান্ত নিল বর্তমান রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগকে প্রশাসনিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
‘নিজের নিরাপত্তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই, তবুও কৃতজ্ঞ’
নিরাপত্তা ফেরানোর সিদ্ধান্তের কথা জানতে পেরে মীরা ভট্টাচার্য বলেন, “বুদ্ধবাবুর মৃত্যুর পরেই নিরাপত্তা তুলে নেওয়া হয়েছিল। অবশ্য আমার নিজের নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষ কোনো মাথাব্যথা নেই। তবে নতুন মুখ্যমন্ত্রী যদি আমার কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তবে তা আমার পরম সৌভাগ্যের।”
পাম অ্যাভিনিউয়ের সাদামাটা জীবন ও বর্তমান পরিস্থিতি
দক্ষিণ কলকাতার ৫৯এ, পাম অ্যাভিনিউয়ের সেই পরিচিত ফ্ল্যাটেই এখনো সাদামাটা জীবন কাটাচ্ছেন মীরা দেবী। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনও যিনি সরকারি জাঁকজমক থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিলেন, সেই একই আভিজাত্য আজও অটুট। সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই মীরা দেবী বর্তমান প্রশাসনকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, নতুন সরকার রাজ্যে সিন্ডিকেটমুক্ত পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে সফল হবে।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা
আদর্শগত পার্থক্য সত্ত্বেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের প্রতি বর্তমান সরকারের এই সম্মান প্রদর্শনকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে দেখছেন। প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর থেকে মীরা ভট্টাচার্যের নিরাপত্তা নিয়ে এই সংবেদনশীলতা শুধু প্রশাসনিক দক্ষতা নয়, বরং বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন নজির স্থাপন করল।