১৫ দিনের জ্বরের শেষে ভক্তদের মাঝে ফিরলেন জগন্নাথদেব! মাহেশে মহাসমারোহে নবযৌবন উৎসব

পনেরো দিনের কঠোর অনাবসর ও জ্বরের উপশম শেষে অবশেষে ভক্তদের মাঝে ফিরলেন জগন্নাথদেব। দীর্ঘ অসুস্থতার পর মহাপ্রভুর সুস্থতায় মাহেশে পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘নবযৌবন উৎসব’। ৬৩০ বছরের পুরনো মাহেশের এই মন্দিরে জগন্নাথদেবের রথযাত্রার ঠিক একদিন আগে এই উৎসব ঘিরে রীতিমতো সাজ সাজ রব পড়ে গিয়েছে।
কেন এই নবযৌবন উৎসব?
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, স্নানযাত্রার পর প্রবল জ্বরে আক্রান্ত হন জগন্নাথদেব। দীর্ঘ পনেরো দিন তিনি মন্দিরের অন্তরালে নিভৃতবাসে থাকেন। এই সময়টিকেই বলা হয় অনাবসর। সুস্থ হয়ে ওঠার পর যখন তিনি নতুন রূপে ভক্তদের সামনে আসেন, সেই শুভ মুহূর্তটিই ‘নবযৌবন উৎসব’ হিসেবে পালিত হয়। এই বিশেষ দিনে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রাকে অলঙ্কারে ভূষিত করে রাজবেশে সাজানো হয় এবং তাঁদের ৫৬ রকম ভোগ নিবেদন করা হয়।
সকাল থেকেই মন্দিরে ভক্তদের ভিড়:
আজ, ১৫ জুলাই, সকাল সাতটা বাজার আগেই মন্দিরের মূল ফটক ও গর্ভগৃহের দরজা খুলে দেওয়া হয় পুণ্যার্থীদের জন্য। নবযৌবন রূপে প্রভুর দর্শন পেতে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে মাহেশে। আজ সকালে দেবতাকে পুজো দিতে হাজির হয়েছিলেন মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য, ব্যারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী ও চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।
রথযাত্রার চূড়ান্ত প্রস্তুতি:
আগামীকাল, ১৬ জুলাই, জগন্নাথদেবের মূল রথযাত্রা। রথযাত্রার ঠিক একদিন আগে আয়োজিত এই নবযৌবন উৎসবের মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। পুরীর মতোই মাহেশে জগন্নাথদেবের এই আরাধনা দেখতে প্রতিবছরই দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। রথযাত্রা উপলক্ষে মাহেশ এখন কার্যত চাঁদের হাটে পরিণত হয়েছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসন।
রথযাত্রার প্রাক্কালে মহাপ্রভুর এই নবযৌবন দর্শন করে আপ্লুত স্থানীয় ভক্তরা। এখন কেবল অপেক্ষা কালকের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের, যখন জগন্নাথদেব রথে চড়ে পাড়ি দেবেন মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে।