সব ব্যাঙ্ক বন্ধ, ইন্টারনেট গায়েব! একদিন বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ না থাকলে কত কোটি টাকার ক্ষতি হবে? রিপোর্ট দেখলে চমকে যাবেন

আজকের একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎ ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনা করাও অসম্ভব। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, যদি কোনও এক সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন যে শুধু আপনার পাড়ায় বা শহরে নয়, বরং গোটা পৃথিবী থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে বিদ্যুৎ? আর তা যদি স্থায়ী হয় টানা ২৪ ঘণ্টা? শুনতে একটি সাধারণ লোডশেডিং মনে হলেও, মাত্র একদিনের এই ব্ল্যাকআউট (Blackout) মানব সভ্যতার ওপর যে মারাত্মক ও কল্পনাতীত আঘাত হানবে, তার খতিয়ান সত্যি শিউরে ওঠার মতো। প্রায় ৮০০ কোটি মানুষের এই পৃথিবীতে বিদ্যুৎ ছাড়া মাত্র কয়েকটা ঘণ্টা কাটানোই যে কতটা নরকযন্ত্রণা হতে পারে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে এই বৈজ্ঞানিক ও সামাজিক বিশ্লেষণ।
১. অর্থনৈতিক বিপর্যয়: স্তব্ধ হয়ে যাবে বিশ্ব বাণিজ্য!
অর্থনৈতিকভাবে দেখলে, বিশ্বজুড়ে মাত্র একদিনের বিদ্যুৎহীনতা এক অভূতপূর্ব মহাসঙ্কট ডেকে আনবে। আধুনিক অর্থনীতি সম্পূর্ণ ডিজিটাল। ফলে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সাথে সাথেই:
সমস্ত ব্যাঙ্ক, স্টক মার্কেট এবং এটিএম (ATM) পরিষেবা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যাবে।
অনলাইন বা ডিজিটাল পেমেন্ট করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
বড় শপিং মল এবং সুপারমার্কেটগুলি অচল হয়ে পড়বে, ফলে দৈনিক বেচাকেনা বন্ধ হবে।
হিমঘর বা রেফ্রিজারেটর বিকল হয়ে কোটি কোটি টাকার খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধ নষ্ট হয়ে যাবে।
কারখানা ও উৎপাদন ক্ষেত্রগুলি পুরোপুরি বন্ধ থাকায় একদিনেই বিশ্ব অর্থনীতির বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হবে, যা কাটিয়ে উঠতে কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। বিদ্যুৎ যে বিশ্ব বাণিজ্যের আসল প্রাণভোমরা, তা এই এক ধাক্কাতেই প্রমাণ হয়ে যাবে।
২. জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম আশঙ্কা
বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে। হাসপাতালগুলোতে লাইফ সাপোর্ট বা ভেন্টিলেটর, জরুরি অপারেশনের যন্ত্রপাতি এবং অত্যাধুনিক ল্যাবের মেশিনগুলি কাজ করা বন্ধ করে দেবে। হাসপাতালের জরুরি ব্যাকআপ জেনারেটরগুলি মাত্র কয়েক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ দিতে পারে, ফলে জেনারেটরের তেল ফুরিয়ে গেলেই আইসিইউ (ICU)-তে থাকা হাজার হাজার মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।
এর পাশাপাশি, পানীয় জলের সরবরাহ ব্যবস্থা ও জল পরিশ্রুতকরণ পাম্পগুলি বিকল হয়ে পড়বে, যার ফলে মুহূর্তের মধ্যে জলসঙ্কট ও স্বাস্থ্য বিপর্যয় দেখা দেবে। রাত নামলেই আধুনিক শহরগুলো যখন ঘুটঘুটে অন্ধকারে ডুবে যাবে, তখন অকেজো হয়ে পড়বে সিসিটিভি (CCTV) ক্যামেরা থেকে শুরু করে পুলিশের যোগাযোগ মাধ্যম। ফলে এক লহমায় অপরাধমূলক কার্যকলাপের গ্রাফ আকাশ ছোঁয়া হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
৩. যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: একাকী ও অন্ধ হয়ে পড়বে গোটা বিশ্ব
যদি একদিন বিদ্যুৎ না থাকে, তবে আমরা ফিরে যাব কয়েকশো বছর আগের আদিম যুগে। ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক, টেলিফোন, টেলিভিশন এবং রেডিও—সবকিছু একসাথে অকেজো হয়ে পড়বে। কোনো এক দেশের খবর অন্য দেশে পৌঁছানোর কোনো উপায় থাকবে না, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরের নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দেবে।
মানুষ তাদের নিজের পরিবারের সদস্যদের সাথেও যোগাযোগ করতে না পেরে চরম অসহায় বোধ করবে। তথ্যের অভাবে চারদিকে শুধু ছড়িয়ে পড়বে মারাত্মক বিভ্রান্তি ও গণ-আতঙ্ক। আজ যে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের অন্যতম অঙ্গ, তা এক লহমায় নিস্তব্ধ হয়ে যাবে। মানুষ একে অপরের থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে একাকী বোধ করবে।