হাইওয়েতে ২০ কিমি নারকীয় ধাওয়া! চার সন্তানকে নিয়ে পিকনিকে গিয়ে ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা, রডের ঘায়ে চুরমার গাড়ি, তোলপাড় দেশ

সপ্তাহান্তের ছুটিতে চার সন্তানকে নিয়ে আনন্দ করতে গিয়েছিলেন স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু কে জানত, সেই আনন্দই কয়েক মুহূর্তের মধ্যে এক চরম বিভীষিকায় বদলে যাবে! প্রকাশ্য দিবালোকে এক মহিলাকে যৌন হেনস্থা এবং তার প্রতিবাদ করায় কার্যত খ্যাপা নেকড়ের মতো গাড়ির পিছু নিল একদল দুষ্কৃতী। প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার পথ হাইওয়েতে রুদ্ধশ্বাস ধাওয়া করে, লোহার রড দিয়ে হামলা চালিয়ে চুরমার করে দেওয়া হলো সপরিবার গাড়িটি। মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভাভলি বাঁধ ও জলপ্রপাত এলাকায় ঘটে যাওয়া এই শিউরে ওঠা ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার ছুটির দিনে ইগতপুরী এলাকার ভাভলি ড্যাম দেখতে গিয়েছিলেন ভগবত পরিবার। স্বামী, স্ত্রী এবং তাঁদের চার সন্তান সেখানে পিকনিক করেন, জলেও খেলেন। কিন্তু ফেরার পথেই ওত পেতে ছিল বিপদ। একদল যুবক ওই পরিবারের এক মহিলাকে উদ্দেশ্য করে নোংরা শিস দেয় এবং চরম অশালীন আচরণ করতে শুরু করে।
নাসিকের পুলিশ সুপার ডিএস স্বামী এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান,
“একজন শিস দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রথম বিবাদ শুরু হয়। পরিবারটি পরিস্থিতি এড়াতে সেখান থেকে চলে যেতে চাইলেও অভিযুক্তরা তাদের রাস্তা আটকে পিছু নেয়।”
“চোখের সামনে স্বামীকে মারধর, ২০ কিমি ধাওয়া!”— বিস্ফোরক পুনম
ঘটনার নৃশংসতার বিবরণ দিতে গিয়ে আক্রান্ত মহিলা পুনম ভগবত এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে জানান,
“ফেরার সময় দু’জন ব্যক্তি আমাকে উদ্দেশ্য করে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে। আমি আর আমার স্বামী এর তীব্র প্রতিবাদ করি। জানতে চাই, প্রকাশ্যে একজন মহিলাকে কেন এভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে? এই প্রতিবাদের পরই ওই দু’জন আশপাশের খাবারের দোকান থেকে আরও ১০-১২ জন ছেলেকে ডেকে আনে।”
পুনম আরও জানান, মুহূর্তের মধ্যে লাঠিসোটা নিয়ে তাঁদের ঘিরে ধরা হয়। তাঁর স্বামীকে নির্মমভাবে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে পরিবারটি কোনওমতে গাড়িতে উঠে পালাবার চেষ্টা করলে শুরু হয় আসল নারকীয় তাণ্ডব। একটি সাদা বালেনো গাড়ি (MH 46 BE 3721) এবং একটি হিরো মোটরবাইকে (MH 15 KA 4502) করে হামলাকারীরা ধাওয়া করতে শুরু করে তাঁদের।
“গাড়ি থামলেই ওরা আমাদের মেরেই ফেলত!”
হাইওয়ের ট্র্যাফিকে গাড়ি একটু ধীর হলেই লোহার রড দিয়ে একের পর এক আঘাত করা হতে থাকে চলন্ত গাড়িতে। রডের ঘায়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে যায় গাড়ির কাচ, দুমড়ে-মুচড়ে যায় গোটা বডি। পুনম বলেন,
“সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, হামলার সময় গাড়ির ভিতরে আমাদের চারজন শিশু ছিল। বাচ্চারা এখনও ভয়ে থরথর করে কাঁপছে। আমাদের শুধু মনে হচ্ছিল, যদি কোনও কারণে ট্র্যাফিকে গাড়ি পুরোপুরি থামিয়ে দিতে হয়, তবে ওরা আমাদের মেরেই ফেলবে!”
অনড় জেদ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
এই ভয়ানক ট্রমার মধ্য দিয়ে গিয়েও অবশ্য মাথা নোয়াচ্ছেন না আক্রান্ত পুনম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি ভয় পেয়ে চুপ করে থাকার পাত্রী নন। ভবিষ্যতে এমন হলে তিনি আবারও প্রতিবাদ করবেন। দোষীদের এমন কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি, যাতে পরবর্তীতে কোনও মহিলাকে হেনস্থা করার আগে অপরাধীরা দু’বার ভাবে। প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যটনকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে।