প্রতিবেশী দেশের গতিবিধির ওপর ২৪ ঘণ্টা নজরদারি! ভারতের ‘স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এয়ারশিপ’ প্রকল্প কি সীমান্তে গেম-চেঞ্জার?

সীমান্ত এলাকায় প্রতিপক্ষের যেকোনো ধরনের কার্যকলাপের ওপর কড়া নজর রাখতে ভারত এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিতে চলেছে। আকাশপথে প্রায় ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি বিশেষ ‘তাঁবুর মতো’ কাঠামো বা ‘স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এয়ারশিপ’ (Stratospheric Airship) মোতায়েন করতে চলেছে ভারত। এই প্রকল্পটির লক্ষ্য পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমানায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও নিশ্ছিদ্র করা।

প্রকল্পটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বর্তমানে নজরদারির জন্য ভারত উচ্চ-উচ্চতার ড্রোন (১২ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত) এবং পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থিত কৃত্রিম উপগ্রহ (৫০০–২,০০০ কিলোমিটার উচ্চতা) ব্যবহার করে। এই দুইয়ের মধ্যবর্তী শূন্যস্থান বা ব্যবধান ঘুচিয়ে দিতেই কাজ করবে এই ‘এয়ারশিপ-ভিত্তিক হাই অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট’ (AS-HAPS)। ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে এটি নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি, ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং দূরপাল্লার যোগাযোগ ব্যবস্থার মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।

বেসরকারি কোম্পানির জন্য বড় সুযোগ
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘মেক-১’ (Make I) প্রক্রিয়ার আওতায় এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হলো, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই প্রোটোটাইপ তৈরির ক্ষেত্রে গবেষণামূলক ব্যয়ের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ বহন করবে ভারত সরকার। ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) ডিরেক্টরেট অফ অপারেশনস (রিমোট) পুরো বিষয়টি তদারকি করছে। ইতিমধ্যে এই উচ্চ-প্রযুক্তিগত প্রজেক্টে অংশগ্রহণের জন্য দেশের বড় বড় প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি নির্মাতা কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।

DRDO-এর সাফল্যের পর এবার চূড়ান্ত ধাপ
ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির প্রাথমিক সাফল্যের স্বাদ পেয়েছে ভারত। প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO) মধ্যপ্রদেশের আকাশে একটি পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে, যেখানে একটি এয়ারশিপকে ১৭ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত সফলভাবে পাঠানো হয়েছিল। ২০২৫ সালের মে মাসে সম্পন্ন এই পরীক্ষাটি প্রকল্পের ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করেছে।

কেন এটি ‘সিউডো-স্যাটেলাইট’ হিসেবে পরিচিত?
কার্যকারিতা: এটি উপগ্রহের মতো আকাশ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে নজরদারি চালাতে সক্ষম।

স্থায়িত্ব: ড্রোন বা যুদ্ধবিমানের মতো এদের নিয়মিত অবতরণ করতে হয় না; এই এয়ারশিপগুলো একটানা কয়েক মাস আকাশ থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত থাকতে পারবে।

তথ্য প্রবাহ: ভূপৃষ্ঠের নেটওয়ার্ক থেকে উপগ্রহে ডেটা আদান-প্রদান এবং রিয়েল-টাইম তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে এটি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই এয়ারশিপগুলো কার্যকর হলে ভারতের গোয়েন্দা সক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যাবে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারতকে অনেক বেশি শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে আসবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *