হরমুজ প্রণালীতে চরম উত্তেজনা! হু হু করে বাড়ছে গ্যাসের দাম, বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র?

আমেরিকা-ইরান সংঘাতের আঁচ এবার সরাসরি পড়ছে জ্বালানি বাজারে। দুই দেশের উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে পেট্রোল-ডিজেলের পাশাপাশি এলপিজি (LPG) গ্যাসের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবার এলপিজি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বাণিজ্যিক গ্যাসের দামে রেকর্ড বৃদ্ধি:
চলতি বছরের শুরুতে একটি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল প্রায় ১,৮৮৪ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ৩,১০০ টাকা ছুঁয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে রেস্তোরাঁ, হোটেল, হাসপাতাল থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থাগুলোর উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেছে।
কেন নতুন নীতির ভাবনা?
যদিও সরকারি হস্তক্ষেপে ভারতে আপাতত গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে, তবুও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলপিজির অপচয় কমানো এখন সময়ের দাবি। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের কাছে দেশের প্রথম ‘এলপিজি এফিসিয়েন্সি পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক’ বা এলপিজি সাশ্রয় নীতি তৈরির প্রস্তাব জমা দিয়েছে দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় জ্বালানি সংস্থা।
প্রস্তাবিত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশসমূহ:
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরীর কাছে পাঠানো চিঠিতে সংস্থাটি বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপের কথা বলেছে:
শিল্পক্ষেত্রে আধুনিকায়ন: শিল্পকারখানায় এলপিজি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে বিশেষ প্রযুক্তির ব্যবহার।
LOT সিলিন্ডারের ব্যবহার: তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে (OMCs) ৪৭.৫ কেজির ‘লট’ (LOT) সিলিন্ডার ব্যবহারে উৎসাহিত করা।
অপচয় রোধ ও নিরাপত্তা: এলপিজি চুরি বা অপব্যবহার রোধে কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তা বাড়ানো।
সচেতনতা বৃদ্ধি: সারা দেশে এলপিজির দক্ষ ব্যবহার সম্পর্কে প্রচার অভিযান চালানো।
সমন্বিত মান: সরকার এবং তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে এলপিজি ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড তৈরি করা।
বিশেষজ্ঞদের মতামত:
জ্বালানি সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, এতদিন ভারতের জ্বালানি নীতি কেবল সরবরাহ ও সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিত। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির নিরিখে এলপিজির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা এখন অপরিহার্য। এটি সম্ভব হলে শিল্পের উৎপাদন খরচ কমবে এবং দেশের ওপর থেকে জ্বালানির চাহিদার চাপ অনেকাংশে লাঘব হবে। ভারত সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে অদূর ভবিষ্যতে শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী ও সুসংহত গ্যাস ব্যবহারের নীতি বাস্তবায়িত হতে পারে।