শাহরুখ আমার পা চাটছে! আমির খানের এই মন্তব্যে জ্বলে উঠেছিল দেশ, নেপথ্যের কারণ জানলে অবাক হবেন

বলিপাড়ায় শাহরুখ খান ও আমির খানের বন্ধুত্বের রসায়ন আজকের দিনে অনস্বীকার্য। কিন্তু ১৮ বছর আগে, ২০০৮ সালে এই দুই মহাতারকার সম্পর্ক নিয়ে যে তোলপাড় হয়েছিল, তা আজও ভক্তদের কাছে এক চর্চিত বিষয়। আমির খানের একটি ব্লগ পোস্ট মুহূর্তের মধ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল সারা দেশে, যার মূলে ছিল একটি কুকুর এবং ভুল বোঝাবুঝির এক অদ্ভুত মিশেল।

কী ঘটেছিল সেই ২০০৮ সালে?
ঘটনার সূত্রপাত আমিরের একটি ব্লগ পোস্টকে ঘিরে। আমির লিখেছিলেন, “আমি গাছের তলায় বসে বোর্ড গেম খেলছি। আর শাহরুখ আমার পা চাটছে, আমি ওকে বিস্কুট খাওয়াচ্ছি।” এই লাইনটি পড়ার পরেই শাহরুখ ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রিয় তারকাকে এমনভাবে অপমান করায় আমিরের সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন নেটিজেনরা। কিন্তু ঘটনার গভীরে ছিল এক চরম কৌতুকপূর্ণ সত্য।

আসল রহস্য: ‘শাহরুখ’ নামক কুকুর
আসলে, আমির কোনো মানুষের কথা বলছিলেন না। পাঁচগনিতে আমিরের যে বাংলো ছিল, সেখানকার কেয়ারটেকারের একটি পোষা কুকুর ছিল, যার নাম ছিল ‘শাহরুখ’। আশ্চর্যজনকভাবে, কয়েক বছর আগে শাহরুখ খান যখন ওই বাংলোয় একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং করতে গিয়েছিলেন, সেই দিনই কেয়ারটেকাররা ওই কুকুরছানাটিকে এনেছিলেন এবং ভালোবেসে আদর করে নাম দিয়েছিলেন ‘শাহরুখ’। আমির শুধু সেই কুকুরটির কথাই লিখেছিলেন।

শাহরুখের ‘স্পোর্টিং’ প্রতিক্রিয়া
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমির দ্রুত নিজের ভুল সংশোধন করেন এবং স্পষ্ট করেন যে এটি স্রেফ মজার ছলে লেখা। তবে বিষয়টিকে নিয়ে শাহরুখ খান নিজে যেভাবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন, তা আজও উদাহরণ হয়ে আছে। বলিউড বাদশা রসিকতা করে বলেছিলেন, “নামের ওপর তো আর আমার কপিরাইট নেই। মানুষ বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে সন্তানদের নাম রাখে, এখন কুকুরের নাম রাখলে আমার কী বা আসে যায়!”

প্রতিযোগিতা থেকে গভীর বন্ধুত্ব
পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে আমির স্বীকার করেন, সেই সময়ে তাঁদের মধ্যে পেশাগত এক ধরণের ‘টক-মিষ্টি’ প্রতিযোগিতা চলত। কিন্তু সেই তিক্ততার দেয়াল ভেঙে সময়ের সাথে সাথে তাঁদের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

১৮ বছর আগের এই ঘটনা আজও বলিউড ইতিহাসের পাতায় এক অদ্ভুত উদাহরণ হয়ে রয়েছে, যা প্রমাণ করে যে স্টারডম এবং রসবোধের মাঝেও মানুষের পারস্পরিক সম্মান কতটা জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *