বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে টেক্কা! লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াল BSNL, আয়ের নতুন রেকর্ডে খুশি কেন্দ্র

বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলোর প্রবল প্রতিযোগিতার মাঝেও অসাধ্য সাধন করল রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ভারত সঞ্চার নিগম লিমিটেড (BSNL)। দীর্ঘদিনের লোকসানের বৃত্ত ভেঙে আবারও লাভের সরণিতে ফিরল এই টেলিকম জায়ান্ট। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) বিএসএনএল-এর আয় বৃদ্ধির পরিসংখ্যান স্বস্তি দিচ্ছে যোগাযোগ মন্ত্রককে।
আয়ের পরিসংখ্যানে চমক:
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম কোয়ার্টারে (Q1FY27) বিএসএনএল-এর মূল পরিষেবা থেকে আয় হয়েছে ৪,৪১৮ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে এই আয় ছিল ৪,০১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে সংস্থার আয় বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ১০ শতাংশ।
কোন বিভাগে কতটা সাফল্য?
সংস্থার এই সাফল্যের পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে দুটি বিভাগ:
এন্টারপ্রাইজ বিজনেস: বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাকে টেলিকম এবং আইটি সলিউশন দেওয়ার এই বিভাগটি ১৯.২ শতাংশ আয় বৃদ্ধি করেছে। গত বছরের ১,৪৬৩ কোটি টাকার তুলনায় আয় পৌঁছেছে ১,৭৪৫ কোটি টাকায়।
কনজিউমার মোবিলিটি: প্রিপেইড, পোস্টপেইড এবং ৪জি পরিষেবার হাত ধরে এই বিভাগ থেকে আয় ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,৭২৪ কোটি টাকায়।
কনজিউমার ফিক্সড অ্যাক্সেস: ল্যান্ডলাইন ও ব্রডব্যান্ড পরিষেবা থেকে আয় হয়েছে ৯৬০ কোটি টাকা, যা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি।
জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার নেতৃত্বে বদল:
যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বিএসএনএল-এর পুনর্গঠনে বিশেষ নজর দিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর, ঝাড়খণ্ড, উত্তরপ্রদেশ (পশ্চিম) এবং কর্নাটক সার্কেলের পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করেন মন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে এখন দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
কেন সফল বিএসএনএল?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলো যখন বারবার রিচার্জ প্ল্যানের দাম বৃদ্ধি করছে, তখন বিএসএনএল পুরনো দামেই উন্নত পরিষেবা দেওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে। এই নীতিই গ্রাহকদের টেনে আনছে সংস্থার দিকে। তবে জিও বা এয়ারটেলের তুলনায় এখনও পরিষেবার গুণমান এবং নেটওয়ার্ক কভারেজের ক্ষেত্রে অনেকটা পথ বাকি রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটির। তবুও, যেভাবে বিএসএনএল ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, তা দেশের টেলিকম বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।