ভারতে করোনায় মৃত ২, ফের ছড়াচ্ছে সংক্রমণ, জেনেনিন কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি?

অতিমারির স্মৃতি পেছনে ফেলে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরলেও, ফের নতুন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমণের খবর উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশ এবং মুম্বই—এই দুই স্থানে নতুন সংক্রমণের ঘটনা সামনে আসায় নতুন করে ভয়ের আবহ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে তারকা—বাদ যাচ্ছেন না কেউই।

অন্ধ্রপ্রদেশে প্রাণহানি: অন্ধ্রপ্রদেশের কাদাপা এলাকায় কোভিড আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। মৃত ব্যক্তি প্রবল সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর বুকের এক্স-রে রিপোর্টে দেখা যায়, সিভিয়ার নিউমোনিয়ার কারণে তাঁর দুই ফুসফুস মারাত্মকভাবে আক্রান্ত হয়েছে। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে ওই ব্যক্তি মারা যান। বর্তমানে ওই রাজ্যে ৮টি সক্রিয় কোভিড কেস রয়েছে।

মুম্বইয়ে আক্রান্ত জান কুমার সানু: এদিকে, মুম্বইয়েও কোভিড থাবা বসিয়েছে। প্রাক্তন বিগ বস প্রতিযোগী তথা বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কুমার সানুর পুত্র জান কুমার সানু করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেই এই খবর জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তাঁর চিকিৎসা চলছে।

প্রতিরোধেই মুক্তি: করোনাভাইরাস যে অত্যন্ত সংক্রামক, তা গত কয়েক বছরেই স্পষ্ট হয়েছে। ভাইরাসের প্রকোপ রুখতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে চলার ওপর জোর দিচ্ছে প্রশাসন। কোভিড প্রতিরোধে যে বিষয়গুলো অত্যন্ত জরুরি:

  • মাস্ক ব্যবহার: হাঁচি-কাশি বা কথা বলার সময় ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই জনবহুল এলাকায় বা রাস্তায় বেরোলে অবশ্যই মাস্ক পরুন।

  • হাত পরিষ্কার রাখা: নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার অভ্যাস করুন। হাতের কাছে জল-সাবান না থাকলে অবশ্যই ভালো মানের স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।

  • লক্ষণ দেখা দিলেই সচেতনতা: জ্বর, সর্দি-কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট শিশু এবং ষাটোর্ধ্ব প্রবীণদের এই সময়ে বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এছাড়াও যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (যেমন ক্যান্সার রোগী বা যারা ট্রান্সপ্ল্যান্ট করিয়েছেন), তাদের ক্ষেত্রেও বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। আতঙ্কিত না হয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *