নতুন করে কোভিডে কারা ভুগতে পারেন? কাদের রয়েছে ঝুঁকি? জানাল চিকিৎসকরা

ভারতে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে কোভিড-১৯ সংক্রমণ। দেশের একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই এই ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে এবং দ্রুত গতিতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এমনকি ভাইরাসের ফাঁদে পড়ে কয়েকজনের মৃত্যুর খবরও সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে উদ্বেগ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার মানুষকেও বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। মেনে চলতে বলছেন সেই চেনা ও পুরনো মহামারীকালীন নিয়মগুলি।
সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় সাধারণ মানুষের মনে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে তা হলো— কোভিড থেকে কাদের বিপদ সবথেকে বেশি? কাদের বেশি সতর্ক থাকতে হবে? বিশিষ্ট পালমোনোলজিস্ট ডা. সন্দীপ জৈন এই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
কাদের কোভিডের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
ডা. জৈনের মতে, যাঁদের শরীরে আগে থেকেই নানা জটিল রোগ বাসা বেঁধে রয়েছে, তাঁদের বাড়তি সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন। তিনি জানান, “সিওপিডি, অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ, ক্যান্সারের মতো একাধিক জটিল রোগে আক্রান্তদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (ইমিউনিটি) কম থাকে। তাই এই সব অসুখে আক্রান্তদের একটু বেশি সাবধানে থাকতে হবে। নইলে বিপদ বাড়বে এবং সহজেই করোনাভাইরাস তাঁদের ফাঁদে ফেলতে পারে।” এছাড়া বয়স্ক মানুষদেরও আলাদা করে সাবধানে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
তবে শুধু জটিল রোগীরাই নন, যে কোনও সাধারণ মানুষেরই কোভিডের সংক্রমণ হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সকলেরই এখন থেকে সচেতন হওয়া জরুরি।
ঠিক কী কী সাবধানতা নিতে হবে?
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষজ্ঞরা সেই পুরোনো এবং পরীক্ষিত নিয়মগুলিই মেনে চলার কথা বলেছেন:
-
মাস্ক ব্যবহার: জনবহুল এলাকায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা উচিত।
-
সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে এবং প্রয়োজনে স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে।
-
ভিড় এড়িয়ে চলা: যথাসম্ভব ভিড় জায়গা এড়িয়ে চলুন।
-
আইসোলেশন: বাড়িতে যদি কারও সর্দি, কাশি বা ফ্লু-এর উপসর্গ দেখা দেয়, তবে তাঁকেই আলাদা থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক, যাতে রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে না পারে।
কোভিডের লক্ষণ ও চিকিৎসা
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে সাধারণত সাধারণ ফ্লু বা সর্দি-কাশির মতোই উপসর্গ দেখা দেয়। সেক্ষেত্রে জ্বর, সর্দি ও কাশির পাশাপাশি যদি শ্বাসকষ্ট শুরু হয়, তবে অবিলম্বে সতর্ক হতে হবে এবং দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সাধারণ জ্বরের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল খেলেই জ্বর কমে যায়, এক্ষেত্রে অতিরিক্ত ওষুধের প্রয়োজন হয় না। তবে শ্বাসকষ্ট বা অন্য কোনও গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ও নির্দিষ্ট ওষুধের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি সাধারণ সচেতনতামূলক প্রতিবেদন। যে কোনও ওষুধ সেবন বা চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।)