পারস্য উপসাগরে বারুদের গন্ধ! আমেরিকা-ইরান সামরিক সংঘাত ঘিরে বিশ্বজুড়ে চরম আতঙ্ক

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ-বাতাস এখন বারুদের গন্ধে ভারী। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ রবিবার এক নতুন ও ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছাল। হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে গত ৪৮ ঘণ্টার সামরিক শক্তি প্রদর্শনে গোটা অঞ্চল এখন এক গভীর সংকটের মুখে।
ঠিক কী ঘটেছে?
সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) অধীনে মার্কিন বাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, এয়ার ডিফেন্স সাইট এবং রিভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌযানগুলিকে লক্ষ্য করে একের পর এক হামলা চালিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঙ্কার, “আমরা ওদের যোগ্য জবাব দিচ্ছি।” আমেরিকার দাবি, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলির চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সামরিক অভিযান।
পাল্টা আঘাত ইরানের:
এর পাল্টা হিসেবে ইরান কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, ওমান এবং জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, তাদের এই হামলায় আমেরিকার প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম, অস্ত্রভাণ্ডার এবং রাডার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কাতার ও জর্ডানের বিমানঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জখম হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
অস্থিরতার আঁচ উপসাগরে:
এই সংঘাত এখন আর কেবল আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কাতার ও ওমানের মতো দেশগুলিও ইরানের হামলার শিকার হওয়ায় কূটনৈতিক উত্তাপ বেড়েছে। ওমান সরকার ইতিমধ্যেই ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং মার্কিন নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্ববাণিজ্য এক বিরাট বিপদের মুখে।
শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ অন্ধকার:
মাসখানেক আগে হরমুজ প্রণালী নিয়ে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, এই চরম সংঘর্ষের ফলে তার ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। ওমানের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা কার্যত থমকে গিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহম্মদ বাখের কলিবফের হুঁশিয়ারি, “একতরফা চুক্তির যুগ শেষ, এবার ফল ভোগ করতে হবে।”