রাজ্যে জারি ‘গুন্ডা দমন আইন’! রাজনৈতিক মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন দিলীপ ঘোষ

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক মদতপুষ্ট অসামাজিক কার্যকলাপ ও দুষ্কৃতীরাজ রুখতে এবার কোমর বেঁধে নেমেছে রাজ্য সরকার। বিধানসভায় পাশ হওয়া ‘পশ্চিমবঙ্গ জননিরাপত্তা ও অসামাজিক কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ বিল, ২০২৬’-এর সমর্থনে এবার জোরালো সওয়াল করলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর কথায়, “বছরের পর বছর মানুষ এই গুন্ডামিতে ক্লান্ত। এবার আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।”
দিলীপ ঘোষের কড়া বার্তা:
একটি সাক্ষাৎকারে দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যের মানুষ রাজনৈতিক দাদাগিরিতে বিরক্ত। তিনি সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে এগিয়ে এসে এফআইআর (FIR) দায়ের করার আহ্বান জানিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, যারা রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে ভয় ও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, তাদের জন্যই এই নতুন আইনের প্রয়োগ হবে কঠোরভাবে।
কী আছে নতুন এই আইনে?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরণের আইন আগে থেকেই রয়েছে। এই বিলের প্রধান দিকগুলো হলো:
আমলযোগ্য ও জামিন-অযোগ্য: এই আইনের অধীনে প্রতিটি অপরাধ ‘আমলযোগ্য’ (Cognizable) এবং ‘জামিন-অযোগ্য’ (Non-bailable) হিসেবে গণ্য হবে। পুলিশ ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করতে পারবে।
নিবর্তনমূলক আটক (Preventive Detention): যদি সরকার বা অনুমোদিত আধিকারিক মনে করেন যে কোনো ব্যক্তি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি, তবে তাঁকে আটক করা যাবে। জেলাশাসক ও পুলিশ কমিশনারদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
অসামাজিক কার্যকলাপের পরিধি: বেআইনি খনি, অবৈধ বালি উত্তোলন, বনজ সম্পদ বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত অসামাজিক কাজ এই আইনের আওতায় পড়বে।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত: আইন এড়াতে কেউ পালিয়ে গেলে আদালত ঘোষণার মাধ্যমে ওই ব্যক্তির সম্পত্তি সংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে পারবে।
সরকারের অবস্থান:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বস্ত করেছেন যে, সরকার এই আইনের অপব্যবহার করবে না। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার ‘হার্মাদ’ বাহিনী নামিয়ে গুন্ডা সংস্কৃতি চালু করেছিল, যা বাংলার গণতান্ত্রিক পরিবেশ নষ্ট করেছে। এই বিলের মূল লক্ষ্য হলো জননিরাপত্তা জোরদার করা এবং সংগঠিত অপরাধের উপর নিয়ন্ত্রণ স্থাপন করা।
আইনি পরিকাঠামো:
সরকারের মতে, প্রচলিত আইনগুলি সংগঠিত অপরাধ দমনে অপর্যাপ্ত ছিল, তাই নতুন এই আইনি কাঠামোর প্রয়োজন ছিল। আটক ব্যক্তিকে কারণ জানানোর সুযোগ দেওয়া হলেও, জনস্বার্থ রক্ষার খাতিরে কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনে তথ্য গোপন করতে পারবে বলেও বিলে উল্লেখ রয়েছে।