ডায়মন্ড হারবারের ‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর?

ডায়মন্ড হারবারের ‘সেবাশ্রয়’ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। সরিষা ও হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধারের ঘটনায় এবার সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বেশ কয়েকজন প্রশাসনিক আধিকারিকের বিরুদ্ধে পারুলিয়া কোস্টাল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি।
কী অভিযোগ বিজেপি নেতার?
অভিজিৎ দাস ববির দাবি, গত ১০ জুন হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটি খুঁড়ে প্রচুর পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার হয়। এই ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি বলে অভিযোগ। ববির অভিযোগ, “সেবাশ্রয় প্রকল্পের নামে ওষুধ কেনার নাম করে বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতি করা হয়েছে। কেন এই ওষুধগুলো মাটির নিচে চাপা দেওয়া হয়েছিল, তার কোনো সদুত্তর নেই।”
তদন্তের দাবিতে বিজেপি:
বিজেপি নেতার অভিযোগের মূল বিষয়গুলি হলো:
ওষুধের উৎস: উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলো কোথা থেকে এসেছিল এবং কাদের নির্দেশে সেগুলো মাটির নিচে লুকানো হয়েছিল, তার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ঝুঁকি: উদ্ধার হওয়া ওষুধের মধ্যে অনেকগুলোই মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। রোগীদের কি এই ওষুধ দেওয়া হয়েছিল? এই প্রশ্ন তুলে ববি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
আর্থিক অনিয়ম: ওষুধের বাজারমূল্য ও এমআরপি-র মধ্যে ব্যাপক গরমিল রয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর মতে, সরকারি তহবিলের অর্থ তছরুপের উদ্দেশ্যেই এই কাজ করা হয়েছে।
অভিযুক্তের তালিকায় কারা?
বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ববি এই অভিযোগপত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও তাঁর সহযোগী সুমিত রায়, তৎকালীন জেলাশাসক এবং স্বাস্থ্য দফতরের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের নাম উল্লেখ করেছেন।
রাজনৈতিক বিতর্ক ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের এই বিতর্কিত প্রকল্পটি নিয়ে বরাবরই সরব থেকেছে বিজেপি। স্থানীয়দের মধ্যেও এই ঘটনা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল ও ক্ষোভ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে যদি পুলিশি তদন্ত শুরু হয়, তবে শাসকদলের অস্বস্তি যে অনেকটাই বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, এই এফআইআর-এর প্রেক্ষিতে প্রশাসন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেয় কি না।