ইন্দোনেশিয়া সফরে মোদী! ভারত-জাকার্তা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে কাঁপছে বিশ্বরাজনীতি?

তিন দেশের গুরুত্বপূর্ণ সফরের শুরুতেই ইন্দোনেশিয়ায় পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর আমন্ত্রণে জাকার্তায় পৌঁছেই তিনি পেলেন উষ্ণ অভ্যর্থনা। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মোদীর এই সফর কেবল প্রথাগত কূটনৈতিক সাক্ষাৎ নয়, এটি ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় হতে চলেছে।
কেন মোদীর ইন্দোনেশিয়া সফর গেম-চেঞ্জার?
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে প্রতিরক্ষা এবং সামুদ্রিক সহযোগিতাই থাকছে আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও প্রযুক্তির মতো একাধিক ক্ষেত্রে বড় চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে এই সফরে।
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বড় চমক:
অস্ত্র (Astra) মিসাইল: ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘অস্ত্র’ ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে জাকার্তা। অপারেশন সিঁদুরে এই মিসাইলের দুর্দান্ত সাফল্য ইন্দোনেশিয়াকে আকৃষ্ট করেছে।
ব্রহ্মোস চুক্তি: ভারত থেকে আরও বেশি সংখ্যায় ‘ব্রহ্মোস’ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি সংগ্রহের দিকে এগোচ্ছে ইন্দোনেশিয়া।
কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দর:
এই সফরের অন্যতম বড় আলোচ্য বিষয় হতে পারে ‘সাবাং বন্দর’ উন্নয়ন। মালাক্কা প্রণালীর কাছে অবস্থিত এই বন্দর ভারতের গ্রেট নিকোবর প্রকল্প থেকে মাত্র ১০০ মাইল দূরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বন্দরটি যৌথভাবে উন্নয়ন করতে পারলে ভারত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের আধিপত্যের মোকাবিলায় ভারত অনেকটা এগিয়ে থাকবে।
বিনিয়োগের নতুন পথ:
প্রতিরক্ষার পাশাপাশি খনিজ সম্পদের দিকেও নজর দিল্লির। ইন্দোনেশিয়ায় নিকেল ও ইস্পাত উৎপাদনে বড় অংকের বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। এতে একদিকে যেমন ভারতের খনিজ সরবরাহ নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্কও মজবুত হবে।
মোদী-সুবিয়ান্তো রসায়ন:
এটি প্রধানমন্ত্রী মোদীর চতুর্থ ইন্দোনেশিয়া সফর। ২০১৮ সালের পর কৌশলগত অংশীদারিত্বের যে সূচনা হয়েছিল, এই সফরের মাধ্যমে তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার পর প্রধানমন্ত্রী মোদী অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবেন।
বিশ্ব রাজনীতি ও সামরিক কৌশলের নিরিখে মোদীর এই সফর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।