কাশ্মীরি রক্তে রাঙানো পাহালগাম হামলা! লস্কর প্রধান হাফিজ সঈদের বিরুদ্ধে মোদী সরকারের ‘মহা-অ্যাকশন’

জম্মু ও কাশ্মীরের পাহালগামে ঘটে যাওয়া নৃশংস সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় এবার পাকিস্তান ও লস্কর-ই-তৈবা (LeT) প্রধান হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ ঘোষণা করল ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। সোমবার বিশেষ আদালতে পেশ করা একটি বিস্ফোরক সম্পূরক চার্জশিটে কুখ্যাত জঙ্গি নেতা হাফিজ সাঈদকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় এই গোয়েন্দা সংস্থা। নিষিদ্ধ সংগঠন লস্কর-ই-তৈবা এবং তার প্রক্সি সংগঠন ‘দি রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ (TRF)-এর মাথা হিসেবে ভারতে রক্তবন্যা বইয়ে দেওয়ার নেপথ্যে সাঈদের ব্যক্তিগত ভূমিকা এবার অকাট্য প্রমাণসহ আদালতের সামনে আনা হয়েছে।

এনআইএ হাফিজ সাঈদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধি (IPC) এবং কঠোর বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন (UAPA)-এর একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। তার বিরুদ্ধে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং পাকিস্তান থেকে বসে ভারতের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার সুগভীর আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে।

১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে পাকিস্তানের পর্দাফাঁস!
গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, এর আগে পেশ করা মূল ১,৫৯৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটটিরই একটি বর্ধিত এবং অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ হলো এই সম্পূরক চার্জশিট। এতে জম্মু-কাশ্মীরে অশান্তি ছড়াতে ইসলামাবাদের তৈরি নীল নকশা, হাফিজ সাঈদের প্রত্যক্ষ মদদ এবং তদন্তের সময় সংগৃহীত বৈজ্ঞানিক ও অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত প্রমাণের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে।

কী ঘটেছিল পাহালগামে?
তারিখ: ২২শে এপ্রিল, ২০২৫।

হামলার ধরন: পাকিস্তান-সমর্থিত সন্ত্রাসীরা ভূস্বর্গের পাহালগামে নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষকে টার্গেট করে অতর্কিতে হামলা চালায়।

ক্ষয়ক্ষতি: নিরীহ বেসামরিক মানুষদের ওপর নির্বিচারে চালানো এই গুলিবর্ষণে ২৫ জন পর্যটক এবং ১ জন স্থানীয় নাগরিকসহ মোট ২৬ জন প্রাণ হারান।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পাহালগাম থানায় এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ। কিন্তু ঘটনার গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের গভীরতা বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক মামলার দায়িত্ব তুলে দেয় এনআইএ-র হাতে।

জঙ্গি নেটওয়ার্কের শিকড় উপড়াতে মরিয়া এনআইএ
এর আগে ২০২৫ সালের ১৫ই ডিসেম্বর দাখিল করা চার্জশিটে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার সাজিদ জাট, ‘অপারেশন মহাদেব’-এ খতম হওয়া তিন সন্ত্রাসী এবং গ্রেপ্তার হওয়া দুই সন্দেহভাজনকে অভিযুক্ত করেছিল এনআইএ। তদন্তকারীরা সাফ জানিয়েছেন, লড়াই এখনই থামছে না। সীমান্তপারের মাটি ব্যবহার করে ভারত তথা কাশ্মীরে যারা অশান্তি ছড়াচ্ছে, সেই সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের শিকড় উপড়ে ফেলতে এবং ষড়যন্ত্রের সমস্ত দিক উন্মোচনের জন্য আরও নিরেট তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহের কাজ জারি রয়েছে। হাফিজ সাঈদের নাম চার্জশিটে আসায় আন্তর্জাতিক স্তরেও পাকিস্তানের ওপর চাপ যে বহুগুণ বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *