সংসদে বড় পরিবর্তনের মুখে তৃণমূল ও উদ্ধব শিবির! স্পিকার ওম বিড়লার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় দিল্লি

২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশন ভারতীয় রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। তার আগেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা সাংসদদের ভবিষ্যৎ নিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে রাজনৈতিক মহল। স্পিকারের এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর লোকসভায় অবস্থান এবং আসন বিন্যাস।
তৃণমূলের অন্দরে বড় ফাটল? তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য সময়টা বেশ কঠিন। দলের ২০ জন সাংসদ বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়া’ (NCPI) নামে নতুন একটি গোষ্ঠী তৈরি করেছেন। শুধু তা-ই নয়, এই বিদ্রোহী সাংসদদল লোকসভায় নিজেদের জন্য পৃথক আসন বরাদ্দের আবেদন জানিয়েছেন। চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই বিদ্রোহী অংশটি নরেন্দ্র মোদী সরকারের প্রতি পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছে এবং এনডিএ (NDA)-তে যোগদানের আগ্রহও ব্যক্ত করেছে।
স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে ভাগ্য এখন প্রশ্ন উঠছে, স্পিকার ওম বিড়লা কি এই বিদ্রোহী অংশটিকে আলাদা গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন, নাকি দলত্যাগ বিরোধী আইনের আওতায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে? যদি স্পিকার এই গোষ্ঠীকে পৃথক আসন বরাদ্দ করেন, তবে লোকসভায় তৃণমূলের রাজনৈতিক ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। অন্যদিকে, একই ধরনের অস্থিরতা রয়েছে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার অন্দরেও। দল ও প্রতীকের আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষিতে লোকসভায় তাদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও দীর্ঘদিনের ধোঁয়াশা রয়েছে।
বাদল অধিবেশন ও সমীকরণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকারের এই রায় কেবলমাত্র তৃণমূল বা শিবসেনার অভ্যন্তরীণ সমীকরণকেই পাল্টে দেবে না, বরং ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে চলা বাদল অধিবেশনে এনডিএ সরকারের শক্তিকেও বাড়িয়ে দিতে পারে। যদি এই বিদ্রোহী সাংসদরা এনডিএ-র অংশ হিসেবে সংসদে বসেন, তবে সরকার আরও সুবিধাজনক অবস্থায় থাকবে।
স্পিকারের সিদ্ধান্তই এখন নির্ধারণ করবে সংসদের অলিন্দে কারাই বা আসল তৃণমূল বা শিবসেনা বলে বিবেচিত হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ওম বিড়লার পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক রায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা ভারতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের উলটপুরণ ঘটাতে পারে।