পুলিশের কাছে নিখোঁজ ডায়েরি, বাথরুমে পুঁতে রাখা দেহ! ৪৫ দিন পর স্বামীর কঙ্কাল উদ্ধারে শিউরে ওঠা ঘটনা

৪৫ দিন ধরে নিখোঁজ স্বামীর খোঁজে কান্নাকাটি, পুলিশের কাছে ডায়েরি এমনকি প্রশাসনের সাথে তল্লাশি অভিযানেও সামিল হয়েছিলেন স্ত্রী। কিন্তু শেষপর্যন্ত পর্দাফাঁস হলো এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের। বাড়ির শৌচাগারের মেঝের নিচে সিমেন্ট দিয়ে গাঁথা অবস্থা থেকে উদ্ধার হলো নিখোঁজ ওই ব্যক্তির মৃতদেহ। উত্তরপ্রদেশের আগ্রার এই ঘটনায় স্তম্ভিত স্থানীয় বাসিন্দারা।

কীভাবে ফাঁস হলো রহস্য?
নিখোঁজ সুরেন্দ্র শর্মার পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে তাঁর দাদা, সুরেন্দ্রর স্ত্রীর কথাবার্তায় বারবার অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। তাঁরাই পুলিশের কাছে সন্দেহ প্রকাশ করেন। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ ওই মহিলাকে দফায় দফায় জেরা শুরু করে। জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন স্ত্রী। তিনি পুলিশকে জানান, কীভাবে বাথরুমের নিচে দেহটি পুঁতে রেখেছিলেন।

খুনের ছক ও কার্যপদ্ধতি:
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী মহিলা তাঁর দুই মেয়েকে ভাসুরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। এরপর স্বামীকে ঘুমের ওষুধ মেশানো ক্ষীর খাইয়ে অচৈতন্য করে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। ঘটনার পরের দিন সকালেই শৌচাগারের মেঝে খুঁড়ে গর্ত তৈরি করেন এবং সেখানেই দেহ পুঁতে দিয়ে উপরে সিমেন্টের আস্তরণ তৈরি করে দেন। যাতে সন্দেহ না হয়, তাই নিখোঁজ ডায়েরিও করেন এবং প্রতিবেশীদের সামনে কান্নাকাটির নাটক চালিয়ে যান।

তদন্তে পুলিশ:
আগ্রা পুলিশ বাথরুমের মেঝে খুঁড়ে দেহ উদ্ধার করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের পিছনে সুনির্দিষ্ট কারণ কী, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এছাড়া মহিলার সঙ্গে এই নারকীয় ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। অভিযুক্ত স্ত্রীকে পুলিশ ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *