বিজনেসের নাম করে পাকাপাকি ফাঁদ! পাকিস্তানে দুই বিদেশি তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় নাম জড়াল মন্ত্রীর আত্মীয়ের

বিশ্বের দরবারে আবারও বড়সড় অস্বস্তিতে পাকিস্তান। খোদ উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা বিদেশমন্ত্রী ইশাক দরের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের বিরুদ্ধে দুই বিদেশি তরুণীকে গণধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে লাহোর পুলিশ।

ঠিক কী ঘটেছিল?
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৯ জুন নেদারল্যান্ডস ও ভেনেজুয়েলা থেকে আসা দুই তরুণীকে লাহোরে অপহরণ করা হয়। এরপর অভিযুক্তরা তাঁদের একটি বাড়িতে আটকে রেখে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। ঘটনার সূত্রপাত নির্যাতিতার বাবার মাধ্যমে, যিনি স্পেনে থাকেন। তিনি ফোন করে লাহোর পুলিশকে খবর দিলে তৎপর হয় প্রশাসন। দীর্ঘ তল্লাশির পর ওই দুই তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ।

কীভাবে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল?
নির্যাতিতাদের বয়ান অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত (যিনি পাক বিদেশমন্ত্রীর আত্মীয়) সঙ্গে গত বছরের অক্টোবরে সিঙ্গাপুরে পরিচয় হয়েছিল তাঁদের। তাঁদের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে যৌথ বিনিয়োগের সম্পর্কও ছিল। তরুণীদের পাকিস্তানে আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি তাঁদের জন্য বিজনেস ভিসার ব্যবস্থাও করেছিল ওই প্রভাবশালী অভিযুক্ত। কিন্তু লাহোরে পা রাখতেই তাঁদের অপহরণ করা হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
লাহোর পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে ইশাক দরের আত্মীয় জড়িত থাকায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার অভিযুক্তদের লাহোর আদালতে পেশ করা হয়েছিল, যেখানে আদালত তাদের পাঁচদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। মোট পাঁচজন অভিযুক্তের মধ্যে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে একজন এখনও পলাতক। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।

এই ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *