‘সেবাশ্রয়’ নিয়ে বিপাকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের এফআইআর

রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন করে আরও একটি এফআইআর (FIR) দায়ের হলো। ডায়মন্ড হারবার মডেলে পরিচালিত ‘সেবাশ্রয়’ নামক স্বাস্থ্য প্রকল্পকে ঘিরে ওঠা একাধিক গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ডায়মন্ড হারবার থানায় এই মামলা রুজু হয়েছে। ইতিমধ্যেই তদন্তভার গ্রহণ করেছেন ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও।
অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু: অভিযোগ উঠেছে, অনুমোদনহীন বা অযোগ্য চিকিৎসকদের নিয়ে ‘সেবাশ্রয়’-এর ব্যানারে বেআইনিভাবে স্বাস্থ্য শিবির পরিচালনা করা হচ্ছিল। রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা, জালিয়াতি এবং নিম্নমানের ওষুধ বিতরণের মতো মারাত্মক অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রকল্পের আড়ালে সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অভিযোগ তুলে ডায়মন্ড হারবার থানায় লিখিত অভিযোগ জমা পড়ে।
কোন কোন ধারায় মামলা? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) অধীনে মোট ২৭টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ধারা হলো:
-
ধারা ৩১৮ (৪): প্রতারণা সংক্রান্ত মামলা।
-
ধারা ৩৩৫: মিথ্যা বা জাল নথি তৈরির অভিযোগ।
-
ধারা ৩৪০ (২): জাল নথিকে আসল হিসেবে ব্যবহার করা।
-
ধারা ২৭৫: ভেজাল বা নিম্নমানের ওষুধ বিতরণের অভিযোগ।
-
ধারা ৬১ (২): অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র।
এছাড়াও ড্রাগ অ্যান্ড কসমেটিক্স অ্যাক্ট এবং অ্যাটমিক এনার্জি অ্যাক্টের ১৭ নম্বর ধারায় মামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি: ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্ত শুরু করেছেন ডায়মন্ড হারবারের এসডিপিও। ডিজে কাণ্ডের পাশাপাশি এই নতুন মামলা তৃণমূল সাংসদের আইনি জটিলতা অনেকাংশেই বাড়িয়ে দিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রকল্পের নাম করে রোগীদের প্রতারণা ও জাল নথি ব্যবহারের মতো বিষয়গুলো প্রমাণিত হলে তা রাজনৈতিকভাবে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে গোটা ঘটনাটি বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে থাকায় তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তুঙ্গে জল্পনা।