‘ফোন ট্যাপ থেকে পরিবারের সদস্যদের হেনস্থা’! এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক আইনি লড়াই চলছে। তলব, জেরা এবং পুরসভার নোটিস—সব মিলিয়ে গত কয়েক মাসে তাঁকে ক্রমাগত চাপে রাখা হয়েছে। এতদিন এসব নিয়ে খুব একটা সরব না হলেও, প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তীর গ্রেফতারির পরপরই নীরবতা ভেঙে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন অভিষেক।

কী অভিযোগ অভিষেকের?
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এক দীর্ঘ পোস্টে অভিষেক দাবি করেন, গত দুই সপ্তাহে সিআইডি এবং এসটিএফ কোনো আইনি নোটিস ছাড়াই তাঁর সঙ্গে যুক্ত অন্তত ২৫ জনকে তুলে নিয়ে গিয়েছে বা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। যদিও সরাসরি দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম তিনি নেননি, তবে ইঙ্গিত যে তাঁর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের দিকেই, তা স্পষ্ট।

“মিথ্যা বয়ানের জন্য চাপ”
অভিষেকের অভিযোগ, এজেন্সির হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাঁর কথায়, “ধৃতদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং চাপ দেওয়া হচ্ছে যেন তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বয়ান দেন।” এখানেই শেষ নয়, অভিষেক আরও গুরুতর অভিযোগ করে লিখেছেন, “আমার ফোন ট্যাপ করা হচ্ছে। এমনকি পরিবারের মহিলা সদস্যদেরও হেনস্থা করা হচ্ছে এবং হুমকি দেওয়া হচ্ছে।”

সুমিৎ রায়ের খোঁজে পুলিশ
এদিকে, এই পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি জমি কেলেঙ্কারির মামলা। এই মামলায় অভিষেকের আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়ের খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। হাইকোর্টে আবেদন করেও সুমিত রায় এখনো কোনো রক্ষাকবচ পাননি। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, দেবরাজের গ্রেফতারি এবং এরপর অভিষেকের এই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে। একদিকে এজেন্সিগুলোর তদন্তের গতি, আর অন্যদিকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই পাল্টা অভিযোগ—আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *