ত্র্যম্বকেশ্বরে অলৌকিক আবিষ্কার! অমৃতকুণ্ডের ৬৫ ফুট গভীরে মিলল শতাব্দীপ্রাচীন শিবলিঙ্গ!

নাসিকের ত্র্যম্বকেশ্বর মন্দিরে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। অমৃতকুণ্ডের ৬৫ ফুট গভীর জলরাশির নিচে লুকিয়ে থাকা এক সুপ্রাচীন শিবলিঙ্গ উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের (ASI) এই আবিষ্কার ঘিরে এখন দেশজুড়ে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
কীভাবে মিলল প্রাচীন নিদর্শন?
হিন্দু ধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থক্ষেত্র হলো এই ত্র্যম্বকেশ্বর মন্দির। মন্দির চত্বরে থাকা ‘অমৃতকুণ্ড’ নামের প্রাচীন জলাধারটি অত্যন্ত গভীর। নিত্যপূজা ও অভিষেকের জন্য যুগ যুগ ধরে এই কুন্ডের জল ব্যবহার হয়ে আসছে। সম্প্রতি প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ এই জলাধারের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারের কাজ শুরু করে। ৬৫ ফুট গভীর ওই কুণ্ডের জল নিষ্কাশন করা হয় এবং তলদেশে জমে থাকা দীর্ঘদিনের পলি ও আবর্জনা পরিষ্কার করা শুরু হয়। আর তখনই আবর্জনার স্তূপের নিচে থেকে উঁকি দেয় একটি প্রাচীন শিবলিঙ্গ।
কী জানাচ্ছে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ?
সোশ্যাল মিডিয়ায় ASI-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি ভারতের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও পবিত্র ঐতিহ্যের এক অমূল্য নিদর্শন। পলি ও কাদার নিচে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে শিবলিঙ্গটি আড়ালে ছিল। এটি উদ্ধার করতে পেরে প্রত্নতাত্ত্বিকরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত।
শিবলিঙ্গের বয়স কত?
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, শিবলিঙ্গটি প্রায় ২৪০ বছরের পুরনো হতে পারে। যদিও সঠিক বয়স নির্ধারণের জন্য আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। ব্রহ্মগিরি পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত এই মন্দিরটি বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম। এখানে শিবলিঙ্গটি ত্রিমুখী (ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর) রূপে বিরাজমান, যা স্থানটিকে ঐতিহাসিকভাবে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
প্রত্নতাত্ত্বিকরা মনে করছেন, সংস্কার কাজগুলো কেবল স্থাপত্য রক্ষার জন্য নয়, বরং আমাদের হারানো ইতিহাসের লুকানো অধ্যায়গুলোকে উন্মোচন করতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। এই আবিষ্কারের পর থেকে ভক্ত ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।