‘মমতাদির সঙ্গে বেইমানি’! দলত্যাগীদের নিয়ে বিস্ফোরক কুণাল, নিশানা কি স্নেহাশিস চক্রবর্তী?

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফাটল যেন ক্রমেই চওড়া হচ্ছে। দলের দখল, প্রতীক এবং আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে টানাপোড়েনের মাঝেই এবার এক প্রাক্তন মন্ত্রীকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণালের এই ঝাঁঝালো পোস্ট ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর চর্চা।
কী লিখেছেন কুণাল?
নাম না করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুণাল ঘোষ লেখেন, “মানুষ কতটা নোংরা হতে পারে! মমতাদি ক্ষমতায় থাকাকালীন মন্ত্রী ছিলেন, নাবালক পুত্রও হাফমন্ত্রীর মতো লাটসাহেবি করেছেন। কিন্তু সরকার চলে যেতেই কর্মীদের পাশে না দাঁড়িয়ে অবসর ঘোষণা করলেন। আর এখন আবার রাতারাতি ‘আসল তৃণমূল’ হওয়ার দাবি তুলছেন!” কুণালের এই পোস্টের শেষে সংযোজন, “এরা মানুষ? এক মাঘে শীত যায় না।”
ইঙ্গিত কি স্নেহাশিসের দিকে?
কুণাল সরাসরি নাম উল্লেখ না করলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর নিশানায় রয়েছেন এমন একজন প্রাক্তন মন্ত্রী, যিনি বর্তমানে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনে ঋতব্রতর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জাভেদ খান, আখরুজ্জামান এবং গোলাম রব্বানীর মতো প্রাক্তন মন্ত্রীরা। সেই তালিকায় ছিলেন পরিবহণ দপ্তরের প্রাক্তন মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীও। বিধানসভা ভোটের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করা স্নেহাশিসের এমন ‘ইউ-টার্ন’ ঘিরেই এখন নানা প্রশ্ন উঠছে। যদিও এই বিষয়ে প্রাক্তন মন্ত্রীর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূলের অন্দরের এই সংঘাত নিয়ে বিরোধীরা অবশ্য দূরত্ব বজায় রাখছে। বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এটি ওদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। কে নতুন সর্দারের সঙ্গে থাকবে আর কে পুরনো, তা ওদের ব্যাপার।”