রাশিয়া-চীন গোপন সামরিক মহড়া! ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আদান-প্রদান নিয়ে বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সামরিক সম্পর্ক এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাল। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের সাম্প্রতিক এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধের রণকৌশল এবং আধুনিক সমরাস্ত্র ব্যবহারের অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের লক্ষ্যে দুই দেশ গোপনে সামরিক প্রশিক্ষণের এক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ইউরোপীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও গোপন নথিপত্রের ভিত্তিতে এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। গোপন প্রশিক্ষণের নেপথ্যে কী?প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের অনুমোদনক্রমে এবং রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। গত আগস্ট ২০২৫-এ একটি বিশেষ ডিক্রির মাধ্যমে এই গোপন চুক্তিতে সিলমোহর দেওয়া হয়। এর আওতায়: রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিদল চীনে গিয়ে পিপলস লিবারেশন আর্মির (PLA) বিভিন্ন সামরিক কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। একইসঙ্গে, ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে অর্জিত অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে ড্রোন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এবং কেমিক্যাল, রেডিওলজিক্যাল ও বায়োলজিক্যাল (RCB) সুরক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে চীনা সেনাদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে রাশিয়া।কেন এই সতর্কতা ও উদ্বেগ?ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, সামরিক ক্ষেত্রে দুই দেশের উচ্চপদস্থ জেনারেলদের এই সরাসরি অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, কৌশলগত অংশীদারিত্ব এখন কতটা গভীর। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিলেও, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের চার বছরের অভিজ্ঞতায় রাশিয়া যেভাবে ড্রোন এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক ব্যবহার করছে, তা চীনের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সামরিক বিশেষজ্ঞরা। পশ্চিমাদের উদ্বেগের কারণ:ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ঘনিষ্ঠতাকে তাদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। বেইজিং নিজেকে ইউক্রেন সংকটে ‘নিরপেক্ষ’ এবং ‘শান্তি মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করলেও, এই গোপন প্রশিক্ষণ তাদের নিরপেক্ষতার দাবিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। ইতিমধ্যে ইইউ এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপের চিন্তাভাবনা করছে। বিশেষজ্ঞদের মত:সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া যেখানে যুদ্ধের ময়দানে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছে, সেখানে চীন তাদের প্রযুক্তিগত উন্নত পরিকাঠামো ও সিমুলেটর ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে রুশ সেনাদের। এই ‘পারস্পরিক বিনিময়ের’ মাধ্যমে দুই দেশই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক একাকীত্ব কাটিয়ে নতুন সামরিক মেরুকরণের দিকে এগোচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *