মহিলার ওপর শুয়ে মুখ চাপা দিলেই ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ বলা যায় না! পাটনা হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে শোরগোল

বিহারের বেগুসরাইয়ের একটি চাঞ্চল্যকর ও পুরনো মামলায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রায় দিল পাটনা হাইকোর্ট। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ, কোনো মহিলার শরীরের ওপর শুয়ে পড়া এবং তাঁর মুখ চেপে ধরাকে কোনোভাবেই সরাসরি ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape) হিসেবে গণ্য করা যায় না। যদিও এটি নিশ্চিতভাবেই মহিলার লজ্যা বা মর্যাদাভঙ্গের একটি গুরুতর অপরাধ। এই মামলার শুনানি শেষে বিচারপতি সন্দীপ কুমারের বেঞ্চ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে থাকা ধৃতের ধর্ষণের চেষ্টার ধারা খারিজ করে দিয়েছেন এবং তাঁর সাজা কমিয়ে ইতিমধ্যেই জেলে কাটানো সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছেন। পাশাপাশি, নির্যাতিতাকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য ২৫ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করা হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
ঘটনাটি ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতের। বেগুসরাইয়ের একটি গ্রামে নিজের ছোট্ট শিশুকে নিয়ে খড়ের চালের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন এক বিধবা মহিলা। অভিযোগ ওঠে, সেই গ্রামেরই এক প্রৌঢ় ব্যক্তি গভীর রাতে খারাপ উদ্দেশ্যে জোর করে তাঁর ঘরে ঢুকে পড়ে। ঘরে জ্বলন্ত প্রদীপ নিভিয়ে সে সোজা ওই মহিলার ওপর গিয়ে শোয় এবং মহিলা চিৎকার শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরে। প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে ছুটে এসে অভিযুক্তকে হাতেনাতে ধরে ফেলে এবং বেধড়ক মারধর করে।

পরে গ্রাম্য পঞ্চায়েতে বিচার না পেয়ে ওই বিধবা মহিলা থানায় যান। কিন্তু অভিযোগ না নেওয়ায় তিনি ১০ ফেব্রুয়ারি সিজেএম (CJM) আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের নির্দেশে পুলিশ মামলা রুজু করে এবং তদন্তের পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’-র ধারায় চার্জশিট দাখিল করে। নিম্ন আদালত অভিযুক্তকে ৪ বছর ৬ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছিল। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল অভিযুক্ত।

হাইকোর্টের রায়ের মূল ভিত্তি:
গত ৮ অক্টোবর রায় ঘোষণা করতে গিয়ে হাইকোর্ট জানায় যে, শুধুমাত্র খারাপ উদ্দেশ্য বা অশালীন আচরণ থাকলেই তাকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ প্রমাণ করা যায় না। আদালত লক্ষ্য করে যে, অভিযুক্ত মহিলার ঘরে ঢুকে প্রদীপ নেভানো, গায়ে ওপরে শোওয়া এবং মুখ চেপে ধরার মতো কাজ করলেও—সে বা মহিলা নিজের কাপড় খুলেছিলেন কিংবা ধর্ষণ করার মতো চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নিয়েছিলেন—এমন কোনো জোরালো বা অকাট্য প্রমাণ নেই।

তবে ঘটনার সত্যতা এবং নির্যাতিতা ও প্রতিবেশীর সাক্ষ্যকে গুরুত্ব দিয়ে আদালত জানিয়েছে, সামাজিক ভয় ও বদনামের ভয়ে অনেক সময় যৌন অপরাধের ক্ষেত্রে অভিযোগ জানাতে সামান্য দেরি হতে পারে। সেই কারণেই ভারতীয় দণ্ডবিধির (IPC) ৩৫৪ ধারা অনুযায়ী মহিলার মর্যাদা হানির অপরাধ এবং অনধিকার প্রবেশের অপরাধ বহাল রাখা হয়েছে। তবে ধর্ষণের চেষ্টার মতো কঠোর অভিযোগ তুলে নেওয়ায় মামলাটি নতুন মোড় নিয়েছে।

Saheli Saha
  • Saheli Saha

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *