টাকার পাহাড় ছাপিয়ে মুঙ্গেরে এবার আস্ত ‘পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার’! ৩ কোটির চোখধাঁধানো প্যান্ডেল দেখে চোখ কপালে উঠবে!

প্রতি বছরই দুর্গাপূজার মরশুমে নতুন নতুন থিম এবং অবিশ্বাস্য সাজসজ্জার মাধ্যমে ভক্তদের মন জয় করে নেয় বিহারের মুঙ্গের জেলার কল্যাণপুরের ‘বড় দুর্গা মহারানি’। আশেপাশের জেলার লক্ষাধিক মানুষের কাছে এই পূজার মণ্ডপ সবসময়ই এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। তবে চলতি বছরে এই আয়োজন অতীতের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টির পথে পা বাড়িয়েছে, যা দেখতে এখন থেকেই দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন দর্শনার্থীরা।
থিমের তাকলাগানো সফর:
২০২১ সালে মাত্র ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাজস্থানের বিখ্যাত ‘হাওয়া মহল’-এর আদলে প্যান্ডেল তৈরির যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা ২০২৬ সালে এসে প্রায় ৩ কোটি টাকার বিশাল বাজেটে রূপ নিয়েছে। বিগত ছয় বছরে ছয়টি ভিন্ন এবং অনন্য থিম উপহার দিয়ে জাতীয় স্তরে এক অনন্য পরিচিতি তৈরি করেছে কল্যাণপুরের এই পুজো:
২০২১: রাজস্থানের হাওয়া মহল (বাজেট: ৮০ লক্ষ টাকা)
২০২২: মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক তাজ হোটেল (বাজেট: ১ কোটি টাকা)
২০২৩: তামিলনাড়ুর মীনাক্ষী আম্মান মন্দির (বাজেট: ১.৫ কোটি টাকা)
২০২৪: দুবাইয়ের বিশ্বখ্যাত বুর্জ খলিফা (বাজেট: ২ কোটি টাকা)
২০২৫: থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককের অরুণ মন্দির (বাজেট: ২.৫ কোটি টাকা)
২০২৬: মালয়েশিয়ার বিখ্যাত পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার (প্রাক্কলিত বাজেট: ৩ কোটি টাকা)
চলতি বছরের প্রধান আকর্ষণ:
এবারের পূজায় দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতে চলেছে মালয়েশিয়ার সুউচ্চ ‘পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার’-এর আদলে তৈরি হওয়া এক বিশাল ও রাজকীয় মণ্ডপ। এই জমকালো কাঠামোকে নিখুঁত রূপ দিতে পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ড থেকে আনা হয়েছে দেশের দক্ষ সব কারিগরদের। পাশাপাশি, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের শিল্পীরা কাচ এবং আয়নার অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও আধুনিক নখ্রাশি বা কারুকার্য ফুটিয়ে তুলছেন।
মণ্ডপে প্রবেশপথেই একটি কৃত্রিম ঝরনার আকর্ষণীয় জলপ্রপাত ভক্তদের স্বাগত জানাবে। এছাড়া ভিক্টোরিয়া হাউসের থিমে তৈরি বিশেষ অংশে মিলবে দেবাদিদেব মহাদেবের দিব্য দর্শন। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় থাকছে চোখধাঁধানো লেজার শো-এর সুব্যবস্থা।
সাংস্কৃতিক উৎসব ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা:
৩০০ বছরেরও বেশি প্রাচীন (প্রায় ৩৬৩ বছরের পুরনো) ঐতিহ্যবাহী এই পুজোকে কেন্দ্র করে শুধু মুঙ্গের নয়, ভাগलपुर, বাঁকা, খাগাড়িয়া, জামুই, লক্ষীসরাই, বেগুনসরাই ও পূর্ণিয়া থেকেও ভক্তরা সমবেত হন। এই বছর প্রায় লক্ষাধিক মানুষের সমাগমের আশা করা হচ্ছে।
মেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের পাশাপাশি তারার মেলাও বসবে। ভোজপুরের পাওয়ার স্টার পবন সিং, প্রখ্যাত গায়িকা কল্পনা পটওয়ারী এবং লোকশিল্পী ভরত শর্মার মতো তারকারা তাঁদের সুরে জমিয়ে তুলবেন আসর। বিপুল ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য মণ্ডপ চত্বরে চারটি পৃথক প্রস্থান বা নिकास দ্বার এবং কড়া স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ‘হরিহোম হোমিও’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিশিষ্ট চিকিৎসক ড. নীতীশ দুবে জানিয়েছেন, মা দুর্গার আশীর্বাদে এ বছরের আয়োজন ভক্তদের জীবনে এক চিরস্মরণীয় এবং অলৌকিক অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।