কাল করব—এই অভ্যাসই কাল হচ্ছে ছাত্রছাত্রীদের! মারাত্মক গবেষণা রিপোর্ট দেখে চোখ কপালে উঠবে!

আজকের ডিজিটাল যুগে ছাত্রছাত্রীদের সামনে সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে কাজ জমিয়ে রাখার বা সময়মতো কাজ না করার প্রবণতা, যাকে এককথায় ‘প্রোক্রাস্টিনেশন’ (Procrastination) বলা হয়। এই মানসিকতার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন মানসিক চাপ বা স্ট্রেস বাড়ছে, তেমনই তাদের সামগ্রিক অ্যাকাডেমিক ফলাফলও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমেরিকার ৯৭টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর চালানো এক সাম্প্রতিক বৃহৎ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে, যা বিখ্যাত গবেষণা পত্রিকা ‘পিএলওএস ওয়ান’ (PLOS One)-এ প্রকাশিত হয়েছে।

বিশাল পরিসরে চাঞ্চল্যকর সমীক্ষা:
আমেরিকার ৯৭টি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬৫,৯৫০ জন শিক্ষার্থীর ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৭২.৩ শতাংশ শিক্ষার্থী নিয়মিত কোনো না কোনোভাবে কাজ জমিয়ে রাখার সমস্যায় ভোগেন। গবেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের খারাপ অ্যাকাডেমিক পারফরম্যান্সের পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হলো এই প্রোক্রাস্টিনেশন। বিশেষ করে গ্র্যাজুয়েট বা প্রফেশনাল কোর্সের তুলনায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট বা স্নাতক স্তরের পড়ুয়াদের মধ্যে এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া আন্ডারগ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭৪.৮ শতাংশই কাজ জমিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছেন, যেখানে উচ্চশিক্ষা বা পেশাদারী কোর্সের পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৬৬.২ শতাংশ।

জীবনের অন্যান্য বড় সমস্যার সঙ্গে তুলনা:
পড়ুয়াদের এই মানসিক অভ্যাসের সঙ্গে জীবন ও স্বাস্থ্যের প্রায় ৩৫টি ভিন্ন সমস্যার তুলনা করা হয়। এর মধ্যে আর্থিক সমস্যা, তীব্র উদ্বেগ (Anxiety), ডিপ্রেশন, এডিএইচডি (ADHD) এবং ঘুমের গোলযোগের মতো গুরুতর বিষয়গুলিও ছিল। এই সমস্ত তুলনার মধ্যে কাজ জমিয়ে রাখার অভ্যাসটি একটি প্রধান ও ক্ষতিকর সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো বড় অ্যাসাইনমেন্ট বা প্রজেক্টের ডেডলাইন কাছে চলে এলে পড়ুয়ারা ল্যাপটপ খুলে বসলেও বারবার ফোন চেক করা বা “মাত্র পাঁচ মিনিট পরে শুরু করছি” বলে সময় নষ্ট করতে করতে দীর্ঘ এক ঘণ্টা পার করে দেন।

অ্যাকাডেমিক ফলাফল ও মানসিক স্বাস্থ্যে চরম প্রভাব:
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মাসে কাজ জমিয়ে রাখার সমস্যায় ভুগেছেন বলে জানিয়েছেন ৭২.৩ শতাংশ পড়ুয়া, যা মানসিক চাপের (৭৩.৮%) প্রায় কাছাকাছি। অন্যদিকে, প্রায় ৪৫.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী সরাসরি স্বীকার করেছেন যে, এই অভ্যাসের কারণে তাদের পরীক্ষার ফল বা পড়াশোনার মান খারাপ হয়েছে। যাঁরা নিয়মিত এই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই অবনতির হার বেড়ে হয়েছে ৬২৭ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসটি সরাসরি কোনো রোগের কারণ না হলেও এটি এমন এক ক্ষতিকর রুটিনের জন্ম দেয়, যার জেরে সময়ের কাজ সময়ে না হওয়ায় মানসিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায় এবং নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। পঠনপাঠনের দুনিয়ায় এই অনভ্যাস দূর না করলে তা দীর্ঘমেয়াদে শিক্ষার্থীদের কেরিয়ারের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *