পুজোর আগেই সুখবর! সরকারি কর্মীদের ৩৮% ডিএ, সাথে বেকারদের জন্য ‘ভরসা’ প্রকল্প

রাজ্যে নতুন সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে সাধারণ মানুষ ও সরকারি কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধি থেকে শুরু করে বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য আর্থিক সহায়তা—বাজেটে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সামাজিক সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সরকারি কর্মীদের ডিএ-তে বড় লাফ:
রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করল সরকার। একধাক্কায় ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) বৃদ্ধির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রাপ্ত ১৮ শতাংশের সঙ্গে আরও ২০ শতাংশ যুক্ত হয়ে মোট ৩৮ শতাংশ ডিএ পেতে চলেছেন কর্মীরা। আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে এই বর্ধিত হার কার্যকর হবে, যার ফলে পুজোর মাসে সরকারি কর্মীদের হাতে বাড়তি অর্থ আসবে।
‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ও মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা:
বাজেট ও প্রশাসনিক ঘোষণার পাশাপাশি মহিলাদের আত্মনির্ভর করতে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, জুলাই মাসে রাজ্যের এক কোটিরও বেশি মহিলা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে পাবেন। এই প্রকল্প ঘিরে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক মহিলার মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।
যুবক-যুবতীদের জন্য ‘ভরসা স্কিম’:
রাজ্যের কর্মহীন শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের জন্য অক্টোবর মাস থেকে চালু হতে চলেছে ‘যুবশক্তি ভরসা প্রকল্প’। এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের বয়স ২১ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে।
স্নাতক (Graduate): সফল আবেদনকারীরা মাসে ৩০০০ টাকা পাবেন।
আন্ডার গ্র্যাজুয়েট: এই ক্যাটাগরির বেকাররা মাসে ২০০০ টাকা সহায়তা পাবেন।
কারা পাবেন এই সুবিধা?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রকল্পের সুবিধা শুধুমাত্র সেইসব পরিবারের সদস্যরা পাবেন যাদের মাসিক পারিবারিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম এবং যারা অন্য কোনো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় নেই। রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনা শিক্ষিত বেকারদের ক্ষেত্রে এক বড় স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নতুন সরকারের এই বাজেট ঘোষণা কি রাজ্যের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনতে পারবে? এখন সেই উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে রাজ্যবাসী।