নারীকুলের ত্রাস ‘ডন’ পার্বতীর আস্তানায় তল্লাশি! উদ্ধার লক্ষাধিক নগদ টাকা ও সোনা-রুপো

রাজধানীর বুকে মাদক ব্যবসার বিরুদ্ধে এক বিরাট সাফল্য পেল দিল্লি পুলিশ। আউটার নর্থ ডিস্ট্রিক্ট পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এলাকার কুখ্যাত নারী মাদক সম্রাট পার্বতী। নারেলায় ওই নারী ডনের ডেরায় অভিযান চালিয়ে নগদ লক্ষাধিক টাকা, বিপুল পরিমাণ সোনা-রুপোর গয়না এবং একাধিক সম্পত্তির দলিল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার ফলে দিল্লি থেকে রাজস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত একটি আন্তঃরাজ্য মাদক পাচার চক্রের পর্দাফাঁস হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ সোনা, নগদ ও সম্পত্তির দলিল উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নারেলায় মাদক সম্রাট পার্বতীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৫৬.৬৯ লক্ষ টাকা, ৩৫৫ গ্রাম সোনা, ১৬১ গ্রাম রুপা এবং চারটি বহুমূল্য সম্পত্তির রেজিস্ট্রি নথি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই সমস্ত অর্থ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি সম্পূর্ণভাবে মাদক পাচারের অবৈধ উপায়েই অর্জন করা হয়েছিল।
এই গোটা চক্রের তদন্তে নেমে পুলিশ এখনও পর্যন্ত মোট ১.২০৪ কেজি হেরোইন, নগদ ৬৪.৬২ লক্ষ টাকা, সোনা-রুপোর গয়না এবং দুটি বিলাসবহুল গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে। উদ্ধার হওয়া এই সমস্ত হেরোইনের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য দেড় কোটি টাকারও বেশি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
১২টি ফৌজদারি মামলার আসামী ‘ব্যাড ক্যারেক্টার’ পার্বতী
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, ধৃত পার্বতীর বিরুদ্ধে এনডিপিএস (NDPS) এবং আবগারি আইনে ইতিমধ্যেই ১২টি গুরুতর ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত রয়েছে। অপরাধ জগতে তার দীর্ঘ অপরাধমূলক ইতিহাস থাকায় তাকে এলাকায় সক্রিয় ‘খারাপ চরিত্র’ বা বিসি (BC) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছুদিন আগেই দিল্লি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে মাদকের বিরুদ্ধে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছিল। এমনকি তার এক সহযোগীকেও পুলিশ ইতিমধ্যেই গরাদে পুড়েছে। গ্রেপ্তারের সময় পার্বতীর কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল।
কঠোর অবস্থানে দিল্লি পুলিশ
রাজধানীতে মাদকের অপব্যবহার এবং যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। মাদকাসক্তি যে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও যুবসমাজকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে, সে বিষয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছে পুলিশ। বর্তমানে বাজেয়াপ্ত করা হেরোইনের উৎস কোথায়, এর মূল সরবরাহ নেটওয়ার্কের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং সম্ভাব্য ক্রেতারা কে বা কারা, তা খতিয়ে দেখতে দফায় দফায় জেরা চলছে। পাশাপাশি, এই বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থের উৎস সন্ধানেও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।