লর্ডসে স্বপ্নভঙ্গ! অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ভারতের

লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে সেমিফাইনালে ওঠার স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিল ভারতীয় মহিলা দল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতার কাছে হার মানতে হলো হরমনপ্রীত কৌরদের। গ্রুপের শেষ ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য থাকলেও, অজিদের কাছে ৬ উইকেটে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল ভারত। এক ওভার বাকি থাকতেই জয় ছিনিয়ে নিল সোফি মোলিনাক্সরা।
হরমনপ্রীতের লড়াই সত্ত্বেও ব্যর্থ ব্যাটিং:
ম্যাচে টসে জিতে আগে ব্যাট করে ভারত ২০ ওভারে ৪ উইকেটে ১৭০ রানের সম্মানজনক স্কোর দাঁড় করায়। টপ অর্ডারে স্মৃতি মান্ধানা, শেফালি ভার্মা ও জেমিমা রদ্রিগেজরা ভালো শুরু করলেও বড় রান করতে ব্যর্থ হন। একাই দলের হাল ধরেন অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর। তাঁর ২৭ বলে ৫৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ভারতকে ১৭০ রানের লড়াই করার মতো স্কোরে পৌঁছে দেয়।
অস্ট্রেলিয়ার দাপট:
জবাবে ব্যাট করতে নেমে প্রথম ওভারেই জর্জিয়া ভলকে হারিয়ে চাপে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে সেই চাপ বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। এলিস পেরি এবং অ্যাশলি গার্ডনারের জোড়া হাফ-সেঞ্চুরিতে অস্ট্রেলিয়া সহজেই জয়ের লক্ষ্য পূরণ করে। দীপ্তি শর্মা ও শ্রাদ্ধা এস-রা বল হাতে লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও অজিদের ব্যাটিং লাইনআপের সামনে তা যথেষ্ট ছিল না। এই জয়ের ফলে টানা দশমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নিল অস্ট্রেলিয়া।
অধিনায়ক হিসেবে কাঠগড়ায় হরমনপ্রীত:
ম্যাচ হারের পর থেকেই ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের রোষের মুখে হরমনপ্রীতের নেতৃত্ব। প্রথম ওভারেই সাফল্য পাওয়ার পর কেন অস্ট্রেলিয়ার ওপর চাপ বজায় রাখা গেল না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ থেকে সমর্থকরা। অধিনায়ক হিসেবে তাঁর রণকৌশল ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার অভাবকে হারের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কী বললেন হরমনপ্রীত?
সমালোচনার জবাবে ম্যাচ পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে হরমনপ্রীত জানান, “আমরা অনেকক্ষণ ম্যাচে ছিলাম, কিন্তু নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি। ১৭০ রানের স্কোর লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। অস্ট্রেলিয়া শুরু থেকেই দুর্দান্ত বোলিং করেছে। বড় দলের বিরুদ্ধে আমাদের পারফরম্যান্স এবার সন্তোষজনক নয়। দল হিসেবে আমাদের ভুলগুলো শুধরে নিয়ে খেলার মান আরও উন্নত করতে হবে।”
বিশ্বকাপ থেকে এই বিদায় ভারতীয় মহিলা দলের জন্য এক বড় ধাক্কা, যা ভবিষ্যতে তাদের আরও কঠিন প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা মনে করিয়ে দিল।