খামেনেই লাপাত্তা! ছাব্বিশের যুদ্ধে লুকিয়ে থেকেই কি ইরান চালাচ্ছেন এই ৬ রহস্যময় ব্যক্তি?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের রহস্যজনক অন্তর্ধান এবং আমেরিকার সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের ক্ষমতার অন্দরমহল নিয়ে এক বিরাট তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই জনসমক্ষে আসছেন না মোজতবা। তবে সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে ইরানের রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বিস্ফোরক দাবি করে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ দলই যুদ্ধ ও আলোচনা সংক্রান্ত সমস্ত বড় বড় নীতি নির্ধারণ করছে।
গোপন সেই ৬ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব কারা?
সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাহী, বিচার বিভাগ এবং আইনসভার শীর্ষস্থানীয় সদস্যদের নিয়ে এই ক্ষমতাবান দলটি গঠিত হয়েছে। যদিও নিরাপত্তার খাতিরে রাষ্ট্রপতি পেজেশকিয়ান সরাসরি কারও নাম প্রকাশ করেননি, তবে ইরানের বিশিষ্ট সংবাদমাধ্যম ‘সাযান্দগি’ পত্রিকার সূত্র অনুযায়ী এই তালিকায় রয়েছে অত্যন্ত প্রভাবশালী কিছু নাম।
আলোচিত এই দলের সম্ভাব্য সদস্যরা হলেন—ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবফ, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, বিচার বিভাগের প্রধান গোলামহোসেন মোহসেনি-এজেই, সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই, আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ভাহিদি এবং একজন প্রবীণ সামরিক কমান্ডার। মূলত এই বিশেষ দলটিই আমেরিকা সহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে কৌশলগত আলোচনা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার সমস্ত মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে। প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলী আহমদ খামেনেইয়ের তৈরি করা কাঠামোর ওপর ভিত্তি করেই এই দল পরিচালিত হচ্ছে।
মোজতবার ভূমিকা ঠিক কী?
ইরানের রাষ্ট্রপতির ভাষ্যমতে, মোজতবা খামেনি সুস্থ আছেন এবং আত্মগোপনে থেকেই সমস্ত শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে মিডিয়া রিপোর্ট বলছে, পর্দার আড়ালে থেকে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা তাতে সিলমোহর দেওয়ার কাজটি মূলত মোজতবাই করে থাকেন। বর্তমানে দেশটির প্রকৃত সামরিক ক্ষমতা রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের (IRGC) প্রধান আহমদ ভাহিদির হাতে, যিনি খামেনেইয়ের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।
আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির জট কাটছে না
এদিকে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড়সড় টানাপোড়েন অব্যাহত রয়েছে। গত সপ্তাহে কাতারের মধ্যস্থতায় নিউইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের তরফ থেকে প্রস্তাব দেওয়া হয় যে, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নিলেই তেহরান কৌশলগত হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করে দেবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই মুহূর্তে বিকল্প অন্য কোনো প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে।