গাড়ির বাজারে বিরাট বিপ্লব! দাম না বাড়িয়েই দুর্দান্ত ফিচার আনছে সুজুকি, জানলে চমকে যাবেন

মোটরগাড়ি শিল্পে এখন দ্রুত বদল আসছে। গাড়ি মানেই এখন আর শুধু ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স কিংবা চার চাকার গণ্ডি নয়; প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যানবাহনগুলো ক্রমেই ‘সফটওয়্যার ডিফাইন্ড ভেহিকল’ (SDV)-এর দিকে এগিয়ে চলেছে। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে ১০৬ বছরের পুরোনো জাপানি গাড়ি নির্মাতা সংস্থা সুজুকি মোটর কর্পোরেশন তাদের প্রযুক্তিগত কৌশলে বড় ধরনের রূপরেখা আনছে। বিশেষ করে ভারতের মতো দ্রুত বর্ধনশীল এবং জটিল বাজারের কথা মাথায় রেখেই আগামী ১০ বছরের জন্য নতুন কর্মপরিকল্পনা উন্মোচন করেছে কোম্পানিটি।
ভারতের জন্য বিশেষ ‘জাস্ট রাইট এডিএএস’ (ADAS)
বর্তমানে ভারতীয় বাজারে এডিএএস বা ‘অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম’-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও, সুজুকি মনে করে পশ্চিমা দেশগুলোর অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তি আমাদের দেশের যানজটপূর্ণ রাস্তায় সবসময় কার্যকর হয় না। ভারতের রাস্তাঘাট গাড়ি, বাইক, অটো এবং পথচারীতে ঠাসা থাকে, যেখানে লেনের দাগ বা ট্র্যাফিক চিহ্নগুলোও প্রায়শই অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই কারণেই সুজুকি ভারতের জন্য বিশেষভাবে নিয়ে আসছে ‘জাস্ট রাইট এডিএএস’। এর মূল উদ্দেশ্য হলো এমন প্রযুক্তি দেওয়া যা ভারতীয় ট্রাফিকের উপযোগী হবে, অথচ গাড়ির দাম অযথা বাড়িয়ে দেবে না। মূলত লেভেল ১ এবং নির্বাচিত লেভেল ২ এডিএএস ফিচারের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে সংঘর্ষ এড়ানো ও পার্কিং সংক্রান্ত সহায়তা থাকবে। সুজুকি পরিষ্কার জানিয়েছে, চালককে অপ্রয়োজনীয় সতর্কবার্তা দিয়ে বিভ্রান্ত না করে সময়মতো সঠিক সহায়তা দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।
নাট-বোল্টের ওজন কমিয়েও বাজিমাত!
সুজুকির নতুন কৌশলের আরেকটি বড় দিক হলো গাড়ির ওজন কমানো। কোম্পানিটি পেট্রোল এবং ইলেকট্রিক—উভয় ধরনের গাড়ির ক্ষেত্রেই প্রধান কাঠামো থেকে শুরু করে ক্ষুদ্রতম অংশের ওজন কমানোর ওপর নজর দিয়েছে। লক্ষ্য একটাই, প্রতিটি গাড়ি থেকে অন্তত ১০০ কেজি ওজন কমানো।
গাড়ি হালকা হলে কম শক্তি খরচ হয়, যা বৈদ্যুতিক গাড়ির ক্ষেত্রে ড্রাইভিং রেঞ্জ বাড়াতে দারুণ সাহায্য করে। এই লক্ষ্যে হাই-টেনসাইল স্টিল ও হালকা অ্যালয় ব্যবহারের পাশাপাশি হার্টেক্ট প্ল্যাটফর্ম উন্নত করা হচ্ছে। এমনকি আশ্চর্যের বিষয় হলো, সুজুকি এখন গাড়ির নাট-বোল্টের ওজন কমানোর দিকেও নজর দিয়েছে! একটি সাধারণ এম৮ (M8) বোল্টের মাথা সামান্য ছোট করলেই প্রতি বোল্টে প্রায় ১ গ্রাম ওজন কমানো সম্ভব। একটি গাড়িতে দু’হাজারের বেশি বোল্ট থাকে, ফলে এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো একত্রিত হয়ে ওজনে বড় ধরনের সাশ্রয় ঘটায়।
এর একটি দারুণ উদাহরণ হলো সুজুকির ইলেকট্রিক ‘েই-স্কাই’ (eSky) কার। শুরুতে গাড়িটির রেঞ্জ ছিল প্রায় ২৩০ কিলোমিটার। কিন্তু টায়ারের রোলিং রেজিস্ট্যান্স কমানো, সাসপেনশনের পরিবর্তন এবং এলইডি-র বিদ্যুৎ খরচ কমানোর মতো ছোট ছোট বেশ কিছু উন্নতির ফলে গাড়িটির রেঞ্জ একলাফে প্রায় ৮০ কিলোমিটার বেড়ে গেছে। হালকা গাড়িতে ছোট ব্যাটারি ব্যবহার করে বেশি রেঞ্জ পাওয়ার এই কৌশল ভারতের আসন্ন ইভি বাজারের জন্য গেমচেঞ্জার হতে পারে।
ইভি-র পাশাপাশি হাইব্রিড ও সিএনজির ওপরও জোর
ভবিষ্যতের বাজারের কথা মাথায় রেখে সুজুকি কেবল ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখছে না। কোম্পানিটি ইভি, নেক্সট-জেনারেশন হাইব্রিড, লিন আইসিই (পেট্রোল), বায়ো-সিএনজি এবং ফ্লেক্স-ফুয়েলের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে এগোচ্ছে। ভারতের বাজারে সিএনজির চাহিদা ব্যাপক থাকায় মারুতি সুজুকি ২০২০ সালেই যাত্রীবাহী গাড়িতে ডিজেল ইঞ্জিন বন্ধ করে দিয়ে এই বিকল্পগুলির ওপর জোর দিয়েছে। সব মিলিয়ে, কম খরচে স্মার্ট ফিচার, দুর্দান্ত নিরাপত্তা এবং ভারতীয় রাস্তার উপযোগী সাশ্রয়ী গাড়ি উপহার দিয়ে বাজারের সেরা স্থান ধরে রাখতে প্রস্তুত সুজুকি।