আস্থার টানে বাংলাদেশ থেকে ভারত, কিন্তু পরিণতি বিচ্ছেদ! বাঙ্কায় গ্রেপ্তার পরিবার, শিশু সন্তানরা গেল চাইল্ড হোমে

রাধা-কৃষ্ণের প্রতি অগাধ ভক্তি এবং পরম শান্তির খোঁজে বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে এসেছিলেন এক হিন্দু পরিবার। কিন্তু বিহারের বাঙ্কা জেলার জামদাহা ঠাকুরবাড়িতে তাদের সেই আধ্যাত্মিক যাত্রা শেষ হলো চরম বিচ্ছেদে। বৈধ নথিপত্র না থাকায় পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালতের নির্দেশে তাদের দুই নাবালক সন্তানকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে চাইল্ড হোমে।

কীভাবে এল এই পরিবার?
বাঙ্কার জামদাহা ওপি এলাকার শ্রীশ্রী ১০৮ পতিত পাবন রাধা-কৃষ্ণ মন্দিরে আশ্রয় নিয়েছিলেন বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বাসিন্দা মিল্টন হালদার ও তার স্ত্রী ঝুমারানি দাস। সঙ্গে ছিল তাদের দুই ছোট সন্তান। মন্দির কর্তৃপক্ষকে তারা অকপটে জানান, তারা রাধা-কৃষ্ণের ভক্ত। দিনভর মন্দিরে সেবাপূজা করে মন্দির প্রাঙ্গণেই রাত কাটাতেন তারা।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কোনো দালালকে ২০ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় আড়াই মাস আগে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। পশ্চিমবঙ্গ হয়ে তারা উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনেও ছিলেন। শেষে বাঙ্কার এই মন্দিরে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল, কিছুদিন এখানে সেবা করার পর আবার বাংলাদেশে ফিরে যাওয়া।

তল্লাশিতে কী মিলল?
পুলিশ পরিবারটির থাকার জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে খুব সামান্য কিছু সামগ্রী পায়। মিল্টনের ফোনে তার বাংলাদেশি পাসপোর্টের ছবি এবং ঝুমারানির কাছে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ছাড়া আর কোনো বৈধ পাসপোর্ট বা ভিসা তারা দেখাতে পারেনি। কোনো অপরাধমূলক উদ্দেশ্য না থাকলেও, ভারতের আইন অনুযায়ী অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে তাদের আটক করা হয়।

সন্তান ও বাবা-মায়ের হৃদয়বিদারক বিচ্ছেদ
আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দম্পতি ও তাদের দুই সন্তানকে আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের আদেশে বাবা-মাকে পাঠানো হয় জেলহাজতে এবং শিশুদের স্থান হয় সরকারি চাইল্ড হোমে। সন্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার সময় বাবা-মায়ের কান্না এবং নিষ্পাপ শিশুদের অসহায় চাহনি প্রত্যক্ষদর্শী সবাইকে আবেগপ্রবণ করে তোলে।

পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে। এখন তাদের এই অবৈধ যাত্রায় মদত দেওয়া সেই দালাল এবং পুরো নেটওয়ার্কের সন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *