আর্থিক টানাটানিই শেষ সম্বল! কেরালার এক পরিবারের ৪ সদস্যের করুণ মৃত্যু, উদ্ধার শেষ দেহটিও

চরম আর্থিক সংকট ও মানসিক অবসাদের জেরে কেরালার কোঠামঙ্গলমে এক পরিবারের চার সদস্যের করুণ মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এই শোকাবহ ঘটনার শেষ পরিণতি মিলল রবিবার সকালে, যখন পিরাভমের কাছে নদী থেকে পরিবারের সাত বছর বয়সী ছোট মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মা, ছেলে এবং বাবার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত
জানা গেছে, মৃত নারায়ণন ও তার স্ত্রী ভিজি (যিনি দৃষ্টিহীন ছিলেন) তাদের দুই সন্তানকে নিয়ে কোঠামঙ্গলমের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। মূলত পালাক্কাড়ের বাসিন্দা নারায়ণন দীর্ঘ দিন ধরে তীব্র আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই শোচনীয় ছিল যে, মাথার ওপর ছাদটুকু বজায় রাখার মতো অর্থও ছিল না তাদের।

পুলিশের উদ্যোগেও শেষ রক্ষা হলো না
হতাশাগ্রস্ত নারায়ণন কিছুদিন আগেই সাহায্যের আশায় কোঠামঙ্গলম পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। মানবিক পুলিশ প্রশাসন পরিবারটির জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছিল এবং রবিবার তাদের সেখানে স্থানান্তরিত করার কথাও ছিল। কিন্তু সেই নতুন জীবনের অপেক্ষায় থাকাকালীনই চরম সিদ্ধান্ত নেয় এই পরিবার। গত বৃহস্পতিবার রাতে পিরাভমের একটি রেস্তোরাঁয় তাদের শেষবারের মতো রাতের খাবার খেতে দেখা গিয়েছিল, যার সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশের হাতে এসেছে।

মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাপ্রবাহ

শুক্রবার: কোঠামঙ্গলমের নদী থেকে মা ভিজি এবং তাদের দুই বছরের শিশুপুত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।

শনিবার: তল্লাশি চালিয়ে বাবা নারায়ণনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ও দমকল বাহিনী।

রবিবার: দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সাত বছর বয়সী মেয়েটির নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে প্রশাসন
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিবারটি সম্ভবত গণ-আত্মহত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে পুলিশ আত্মীয়-স্বজন ও ঘনিষ্ঠদের জবানবন্দি রেকর্ড করছে এবং একটি ‘অস্বাভাবিক মৃত্যুর’ মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হবে। প্রাথমিকভাবে আর্থিক অনটনকেই এই মর্মান্তিক ঘটনার কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *