১ জুলাই থেকে পুরনো নোট বাতিল? জেনে নিন আসল সত্য, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই!

গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপগুলোতে একটি ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়েছে যে, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১০, ২০, ৫০ এবং ১০০ টাকার পুরনো নোটগুলো অকার্যকর হয়ে যাবে। এই খবরে ছোট ব্যবসায়ী থেকে সাধারণ নাগরিক—সকলেই বেশ উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। তবে আজই স্পষ্ট করে জানানো হচ্ছে যে, এই খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
গুজবটি যেভাবে ছড়াল
ইন্টারনেটে একটি সার্কুলার ভাইরাল হয়েছে, যা দেখতে অনেকটা ‘ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র’-এর লেটারহেডের মতো। সেখানে মিথ্যা দাবি করা হয়েছে যে, রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর নির্দেশ অনুযায়ী, ২০০৫ সালের আগে ছাপা নোটগুলো ৩০ জুন ২০২৬-এর পর আর ব্যাংকে গ্রহণ করা হবে না। এই বিভ্রান্তিকর বার্তার কারণেই মানুষ আতঙ্কে ক্যাশ বক্স থেকে পুরনো নোট সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে।
ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্র ও পিআইবি-র স্পষ্ট বিবৃতি
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে ব্যাংক অফ মহারাষ্ট্র তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানিয়েছে, তারা এ ধরনের কোনো নির্দেশিকা জারি করেনি। একই সাথে, সরকারের তথ্য যাচাইকারী সংস্থা পিআইবি (PIB Fact Check) টুইট করে এই দাবিকে ‘মিথ্যা’ বলে ঘোষণা করেছে। পিআইবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সরকার বা রিজার্ভ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নোট বাতিলের এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আরবিআই (RBI)-এর আসল নিয়ম কী?
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিভ্রান্তি দূর করতে রিজার্ভ ব্যাংকের পূর্ববর্তী অবস্থান পরিষ্কার হওয়া জরুরি:
২০০৫ সালের আগে মুদ্রিত মহাত্মা গান্ধী সিরিজের নোটের প্রচলন কমে যাওয়ায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেগুলোকে ব্যাংকে জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল।
রিজার্ভ ব্যাংক কখনওই এই নোটগুলোকে ‘বাতিল’ বা ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেনি। এগুলো আগের মতোই বৈধ মুদ্রা হিসেবে বাজারে চলবে।
মূলত জাল নোটের প্রকোপ কমাতে এবং অধিকতর সুরক্ষা বৈশিষ্ট্যের নতুন নোট প্রচলনের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময়ের সাথে সাথে পুরনো নোটগুলো সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চালায়, যা নোট বাতিল নয়।
সতর্ক বার্তা
আর্থিক বিষয়ে যে কোনো গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো খবর দেখলেই তাতে বিশ্বাস না করে সরকারি ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে তা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন।
আপনার কাছে থাকা ১০, ২০, ৫০ বা ১০০ টাকার পুরনো নোটগুলো সম্পূর্ণ নিরাপদ। এগুলো লেনদেনের জন্য আগের মতোই ব্যবহার করা যাবে। কোনো দোকানদার বা ব্যাংক এই নোট গ্রহণ করতে অস্বীকার করতে পারে না।