ব্যারেল প্রতি ৪ ডলার সস্তা! অফার সত্ত্বেও কেন ইরানের থেকে তেল কিনছে না ভারত?

ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেল বাজারে স্বস্তির হাওয়া। নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় ইরানের তেল ফের বাজারে ঢুকছে এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে ট্যাঙ্কারের যাতায়াতও বেড়েছে। এই সুযোগে তেহরান ভারতকে সস্তায় তেল কেনার প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু এত বড় সুযোগ পাওয়ার পরেও ভারতীয় রিফাইনারিগুলি সেই অফার গ্রহণ করছে না। কেন এই সিদ্ধান্ত?
কতটা সস্তা ইরানের তেল?
রয়টার্স-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি ছাড়াও সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ের বেশ কিছু ব্যবসায়ী ভারতীয় রিফাইনারিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক বাজার দরের চেয়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৩ থেকে ৪ ডলার কমে তেল সরবরাহ করতে তারা প্রস্তুত। স্বাভাবিকভাবেই, এই অফার ভারতীয় অর্থনীতির জন্য লোভনীয় হওয়ার কথা।
কেন তেল কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না ভারত?
সস্তায় তেল পাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ভারত কেন ইরানের প্রস্তাব গ্রহণ করছে না, তার পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে:
-
দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি: ‘কেপলার’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট বলছে, ভারত তাদের জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ইতিমধ্যেই বিশ্বের একাধিক দেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। সেই দেশগুলি থেকেই বর্তমানে ভারতের প্রয়োজনীয় তেলের জোগান আসছে।
-
বিপুল মজুত: ভারতের তেল রিজার্ভ বা কৌশলগত মজুতে বর্তমানে যথেষ্ট পরিমাণ তেল সংরক্ষিত রয়েছে। ফলে তাৎক্ষণিক তেলের সংকটের কোনো ভয় নেই।
-
নিশ্চয়তার অভাব: অতীতে ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে হঠাৎ করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘটনা ভারতের তেল আমদানিতে প্রভাব ফেলেছে। সেই ঝুঁকি এড়াতে ভারত বর্তমানে স্থিতিশীল সরবরাহের ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
পটভূমি ও বর্তমান পরিস্থিতি:
এক সময় আমেরিকা ও ইরানের উত্তেজনার জেরে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলার ছুঁয়েছিল। সেই অস্থিরতা কাটাতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণ করতে আমেরিকা ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছিল। সেই সুযোগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে ভারত ইরানের কাছ থেকে তেল কিনেছিল এবং বেশ লাভবান হয়েছিল। তবে সেই ৩০ দিনের বিশেষ ছাড়ের মেয়াদ ফুরিয়েছে। এখন নতুন সুযোগ এলেও, বর্তমান বৈশ্বিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক জটিলতার কারণে ভারত বেশ সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে।