পররাষ্ট্রনীতিতে মোদীর পথ কি ভুল? সোনিয়া গান্ধীর তোপ, ‘ঐতিহাসিক অবস্থান থেকে বিচ্যুত ভারত!’

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রবন্ধে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে অত্যন্ত কড়া সমালোচনা করেছেন। গাজা ও ইরান ইস্যুসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের সাম্প্রতিক অবস্থানকে তিনি ‘কৌশলগত ভুল’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইরান-মার্কিন উত্তেজনা ও পাকিস্তানের ভূমিকা
সোনিয়া গান্ধীর প্রধান অভিযোগগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, ইরান-মার্কিন উত্তেজনার মতো সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ভারত যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারত, তা থেকে সরে এসেছে। তাঁর মতে, ভারত এই সুযোগ হাতছাড়া করায় পাকিস্তান সেই মধ্যস্থতাকারীর জায়গাটি দখল করে নিয়েছে। অথচ ঐতিহাসিকভাবে ভারত সকল পক্ষের সাথেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখে, যা ভারতকে এই ভূমিকার জন্য যোগ্য করে তুলেছিল।
ইসরায়েল-ভারত সম্পর্ক নিয়ে সংশয়
প্রবন্ধে সোনিয়া গান্ধী ইসরায়েলের সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতার তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা হত্যার কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রীর ইসরায়েল সফরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি একে ‘আশ্চর্যের কৌশলগত সিদ্ধান্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তিনি লিখেছেন, এর ফলে ভারত ফিলিস্তিন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের মিত্রদের থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। তাঁর মতে, এই নীতি পরিবর্তনের মাধ্যমে ভারত অর্জন করেছে কেবল প্রধানমন্ত্রী মোদী ও নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে প্রবল সমালোচনার মুখে।
গাজা ইস্যুতে ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন
গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের বিষয়ে ভারত সরকারের অবস্থান নিয়েও সরব হয়েছেন সোনিয়া গান্ধী। তাঁর দাবি, গাজা ইস্যুতে ভারত যে নীরবতা পালন করছে, তা দেশের দীর্ঘদিনের নৈতিক ও কূটনৈতিক ঐতিহ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার খাতিরে ভারতের আরও জোরালো অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সহায়তার পক্ষে ভারত কেন প্রকাশ্যে কথা বলছে না, সেই প্রশ্নও তিনি তুলেছেন।
ঐতিহ্য থেকে বিচ্যুতি
পরিশেষে, সোনিয়া গান্ধীর মতে, ভারত তার দীর্ঘদিনের ন্যায়বিচার, শান্তি ও মানবতার পররাষ্ট্রনীতি থেকে ক্রমশ বিচ্যুত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি বজায় রাখতে হলে বিশ্বমঞ্চে এই ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি, যা বর্তমান নীতিতে অনুপস্থিত।
সোনিয়া গান্ধীর এই প্রবন্ধটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ভারতের বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের খোরাক জোগাল, যা নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।