দক্ষিণ কোরিয়া সফরে জয়শঙ্কর! প্রতিরক্ষা থেকে জাহাজ নির্মাণ—দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কে নতুন মোড়!

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে দক্ষিণ কোরিয়া (প্রজাতন্ত্রী কোরিয়া) সফর সম্পন্ন করলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর। গত ২৪ ও ২৫ জুন দুই দিনের এই সফরে সিউলে কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউনের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’কে পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়াই ছিল এই সফরের মূল লক্ষ্য।

আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু:
২০২৬ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে-মিয়ং-এর ভারত সফরের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর অগ্রগতি নিয়ে এদিন বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন দুই নেতা। আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে:

বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: আর্থিক সহযোগিতা ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম জোরদার করা।

কৌশলগত খাত: জাহাজ নির্মাণ, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে যৌথ কাজ।

সাংস্কৃতিক ও জনসেবা: শিক্ষা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ (People-to-people connect) বৃদ্ধি।

নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিচালক উই সুং-লাকের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি, ভারত ও কোরিয়ার পারস্পরিক সহযোগিতাকে কীভাবে বিশ্বরাজনীতিতে আরও প্রভাবশালী করে তোলা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

‘জেজু ফোরাম’-এ জয়শঙ্করের বার্তা:
২৫ জুন জেজুতে আয়োজিত ‘জেজু ফোরাম ফর পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল ভাষণ দেন ড. জয়শঙ্কর। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, বিশ্বব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে প্রভাবশালী দেশগুলোর মধ্যে নতুন বোঝাপড়া প্রয়োজন। মন্ত্রী বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “বিশ্বের দক্ষিণাঞ্চলকে (Global South) আরও বেশি সক্ষমতা ও সুযোগ প্রদান করা উচিত। এটি নতুন সম্ভাবনার জন্ম দেবে এবং বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।”

জাহাজ নির্মাণ, ডিজিটাল পরিকাঠামো এবং স্বাস্থ্যের মতো ক্ষেত্রগুলোতে দুই দেশের যে বিশাল সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি, তা বাস্তবায়নে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়াকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পরবর্তী পদক্ষেপ:
সফরের শেষ পর্যায়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর তাঁর কোরিয়ান প্রতিপক্ষ চো হিউনকে ভারত-দক্ষিণ কোরিয়া যৌথ কমিশনের পরবর্তী বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। দুই দেশের উচ্চপদস্থ নেতৃত্বের এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ভারত ও কোরিয়ার কৌশলগত অংশীদারিত্বকে আগামী দিনে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *