রেকর্ড গড়ল অ্যাম্পিয়ার! ৪ লক্ষ ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রি করে বাজারে বড় চমক

পেট্রোলের আকাশছোঁয়া দামের বাজারে যাতায়াতের খরচ কমাতে সাধারণ মানুষের কাছে এখন প্রথম পছন্দ বৈদ্যুতিক স্কুটার। আর এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এক অনন্য নজির গড়ল গ্রিভস ইলেকট্রিক মোবিলিটি-র জনপ্রিয় ব্র্যান্ড ‘অ্যাম্পিয়ার’ (Ampere)। সম্প্রতি কোম্পানিটি ভারতে ৪ লক্ষেরও বেশি ইলেকট্রিক স্কুটার বিক্রির মাইলফলক অতিক্রম করেছে।
কেন বাড়ছে অ্যাম্পিয়ারের জনপ্রিয়তা? কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবর্ষে অ্যাম্পিয়ার গত বছরের তুলনায় ৫১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। শুধু বিক্রিই নয়, তাদের বাজার অংশ বা মার্কেট শেয়ারও ৩.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পেট্রোলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী যাতায়াতের চাহিদাই এই সাফল্যের প্রধান চাবিকাঠি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
কেন সাধারণ মানুষের আস্থা অ্যাম্পিয়ারে? অ্যাম্পিয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিকাশ সিং জানান, ব্যবহারিক, নির্ভরযোগ্য এবং বাজেটের মধ্যে বৈদ্যুতিক যানের চাহিদা পূরণ করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমাদের বিশেষ ফোকাস ১ লক্ষ টাকার কম মূল্যের সাশ্রয়ী স্কুটারের ওপর, যাতে সাধারণ মানুষ খুব সহজেই বৈদ্যুতিক গতিশীলতার সুবিধা নিতে পারেন।”
ব্যাটারি প্রযুক্তিতে নিরাপত্তা: ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার সময় গ্রাহকরা মূলত যে বিষয়টি নিয়ে সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন, তা হলো ব্যাটারির নিরাপত্তা। অ্যাম্পিয়ারের স্কুটারগুলোতে ব্যবহার করা হয় উন্নতমানের লিথিয়াম-আয়রন ফসফেট (LFP) ব্যাটারি প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তিটি সাধারণ ব্যাটারির তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ, কারণ এটি সহজে অতিরিক্ত গরম হয় না এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়। এই বিশেষ প্রযুক্তির কারণেই সচেতন ক্রেতারা অ্যাম্পিয়ারের ওপর ভরসা রাখছেন।
দৈনন্দিন যাতায়াতে ইভি: বর্তমানে কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে পড়ুয়া—সবাই এখন যাতায়াতের জন্য ইলেকট্রিক স্কুটারের ওপর নির্ভর করছেন। উচ্চ-গতি এবং নিম্ন-গতি উভয় ধরণের স্কুটারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা প্রমাণ করে যে, ভারতের মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন দীর্ঘমেয়াদী সাশ্রয়ের কথা ভেবেই বৈদ্যুতিক যানের দিকে ঝুঁকছেন।
বাজারের এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে অ্যাম্পিয়ারের সাফল্যের গ্রাফ আরও ঊর্ধ্বমুখী হবে বলেই মনে করছেন অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞরা।