‘ডানকি’ কেন ফ্লপ? ৩ বছর পর নীরবতা ভাঙলেন রাজকুমার হিরানি, দিলেন চাঞ্চল্যকর ব্যাখ্যা!

২০২৩ সালে যখন ‘কিং অফ রোম্যান্স’ শাহরুখ খান এবং ‘হিটমেশিন’ পরিচালক রাজকুমার হিরানি প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছিলেন, তখন বক্স অফিসে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন ভক্তরা। কিন্তু প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির মধ্যে বড় ব্যবধান থেকে গিয়েছিল ‘ডানকি’ (Dunki) সিনেমার ক্ষেত্রে। দীর্ঘ সময় পর এই ছবির বক্স অফিস ব্যর্থতা নিয়ে অকপট মুখ খুললেন স্বয়ং পরিচালক রাজকুমার হিরানি।
কেন ব্যর্থ হলো হিরানি-শাহরুখের এই ম্যাজিক? সঞ্জয় অরোরার ইউটিউব চ্যানেলে এক খোলামেলা আড্ডায় হিরানি জানান, প্রতিটি সিনেমার আবেদন ভিন্ন হয়। তিনি বলেন, “যখন আমি ‘থ্রি ইডিয়টস’ বানিয়েছিলাম, তখন তার মূল উপজীব্য ছিল ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা, যা প্রতিটি মধ্যবিত্ত পরিবারের ঘরে ঘরে আক্ষেপের জায়গা। তাই সেটি সহজে মানুষের মনে জায়গা করে নিয়েছিল।”
কিন্তু ‘ডানকি’র ক্ষেত্রে সমীকরণটা ছিল একেবারেই আলাদা। পরিচালকের কথায়, এই ছবির বিষয়টি মূলত অবৈধ উপায়ে বিদেশ পাড়ি দেওয়া বা ‘ডানকি রুট’-এর জটিলতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। যা সব শ্রেণীর দর্শকের পক্ষে অনুভব করা সহজ ছিল না।
প্রবাসী দর্শকদের সাড়া বনাম সাধারণ দর্শক: হিরানি জানান, ছবি মুক্তির পর আমেরিকা ও কানাডা থেকে তিনি অসংখ্য বার্তা পেয়েছেন। যারা বাস্তবে এই কঠিন রুট ব্যবহার করে বিদেশে গেছেন, তারা পরিচালককে জানিয়েছেন যে ছবিটি তাদের জীবনের যন্ত্রনার প্রতিফলন। তারা দেশ ছাড়ার যন্ত্রণায় আজও দগ্ধ হচ্ছেন। কিন্তু ভারতের সাধারণ মূলধারার দর্শকদের বড় একটি অংশ হয়তো এই যন্ত্রণার সাথে নিজেদের মেলাতে পারেননি। ফলে সিনেমার পরিধি নির্দিষ্ট গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
হিরানি কি হতাশ? বক্স অফিসের কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পেলেও, হিরানি এই ছবিকে নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবেই দেখেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, শিল্পের আবেদন একেক মানুষের কাছে একেক রকম। শাহরুখ খানের অভিনয় এবং ‘ডানকি’র সামাজিক বার্তার ওপর তিনি আজও সমান আস্থা রাখেন।
দীর্ঘ তিন বছর পর পরিচালকের এই বিশ্লেষণ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—তাহলে কি ‘ডানকি’ সময়ের চেয়ে একটু বেশি এগিয়ে ছিল, নাকি বড় ক্যানভাসে সাধারণ মানুষের আবেগকে ছুঁতে কোনো খামতি থেকে গিয়েছিল?