‘4.20 PM’ পার্টির রমরমা! কেরলে অনলাইন চ্যাট গ্রুপে টার্গেট তরুণরা, সিন্থেটিক ড্রাগে বিপন্ন ভবিষ্যৎ

গাঁজা বা চিরাচরিত নেশা থেকে সরে এসে কেরলের তরুণ প্রজন্মের একাংশ এখন ঝুঁকে পড়ছে এমডিএমএ (MDMA)-এর মতো সিন্থেটিক মাদকের দিকে। রাজ্যে গোপনে ‘4.20 PM’ পার্টির এই রমরমা এখন মাদক প্রতিরোধকারী সংস্থাগুলোর কাছে মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে এই মাদকচক্রটি যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তা দেখে তদন্তকারীদের আশঙ্কা—সমস্যাটি যতটা ভাবা হচ্ছে, বাস্তবে তার পরিধি তার চেয়ে অনেক বেশি।
কী এই ‘4.20 PM’ পার্টি? তদন্তকারী সংস্থাগুলির রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘4.20’ একটি সাংকেতিক শব্দ হিসেবে অনলাইন গ্রুপগুলোতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি মূলত ‘পার্টি ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিত। এই মাদক ব্যবহারের নেশাকে বিনোদনমূলক হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যার ফলে সহজেই ফাঁদে পড়ছে শিক্ষার্থী ও তরুণরা। বিশেষ করে এমডিএমএ-র মতো সিন্থেটিক ড্রাগের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার ভুল প্রচার তরুণদের এর প্রতি কৌতূহলী করে তুলছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মরণফাঁদ: কর্তৃপক্ষের দাবি, মাদক পাচারকারীরা সোশ্যাল মিডিয়াকে তাদের নেটওয়ার্ক তৈরির প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে।
-
টার্গেট অডিয়েন্স: শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাস এবং রিসর্টগুলিকে ঘিরে গড়ে উঠছে এই পাচার নেটওয়ার্ক।
-
সমন্বিত অভিযান: পুলিশ, আবগারি বিভাগ এবং মাদক প্রতিরোধকারী সেল এখন যৌথভাবে নজরদারি চালাচ্ছে।
-
পাচারের রুট: তদন্তে জানা গেছে, এই মাদক কেবল স্থানীয় নয়, বরং আন্তঃরাজ্য করিডোর, আকাশপথ এবং সমুদ্রপথ ব্যবহার করে বিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পৌঁছাচ্ছে কেরলে।
জাতীয় নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ: ‘ভারত এগেইনস্ট ড্রাগস’ কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে কেরল পুলিশ এখন এই সিন্থেটিক ড্রাগ চক্র ভাঙতে কোমর বেঁধে নেমেছে। আধিকারিকদের মতে, এটি কেবল স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বৃহত্তর আন্তঃরাজ্য ষড়যন্ত্রের অংশ। এই চক্রের মূল হোতাদের খুঁজতে এখন সমুদ্র থেকে আকাশপথ—সবদিকেই নজরদারি বাড়িয়েছে গোয়েন্দারা।