৮ম বেতন কমিশনে কি কমবে অফিসার ও সাধারণ কর্মীদের বেতনের আকাশপাতাল তফাত? ১:৮ অনুপাতের দাবিতে তোলপাড় দিল্লি!

অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) গঠন এবং এর সুপারিশের অপেক্ষায় দিন গুনছেন দেশের লক্ষ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা। এরই মধ্যে, নতুন পে-কমিশনে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ মূল বেতনের (Basic Salary) আকাশপাতাল ব্যবধান নিয়ে কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বেতন কাঠামোর এই বিশেষ বৈষম্য বা পার্থক্যকে অর্থনীতির ভাষায় বলা হয় ‘কম্প্রেশন রেশিও’ (Compression Ratio)। সহজ কথায়, এটি হলো সবচেয়ে কম বেতন পাওয়া কর্মী এবং সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার মূল বেতনের তুলনামূলক অনুপাত।

সপ্তম বেতন কমিশনের বড় বৈষম্য
বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) অধীনে একজন কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীর সর্বনিম্ন মূল বেতন প্রতি মাসে ১৮,০০০ টাকা। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ পদমর্যাদার কর্মকর্তার মূল বেতন প্রতি মাসে ২.৫০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ, এই দুইয়ের বর্তমান অনুপাত হলো ১:১৩.৯। কর্মচারী সংগঠনগুলোর মতে, এই ব্যবধান অত্যন্ত বেশি এবং এর ফলে নিম্নস্তরের কর্মচারীরা চরম আর্থিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

ইতিহাসের পাতায় বেতন বৈষম্যের খতিয়ান
ভারতে পে-কমিশনের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, এই বেতনের ফারাক সবসময় এক ছিল না।

আজ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বৈষম্য (দ্বিতীয় পে-কমিশন): ১৯৪৭ সালে দেশে প্রথম বেতন কমিশন চালু হলেও, ১৯৫৭ সালের দ্বিতীয় বেতন কমিশনে বৈষম্য আকাশ ছুঁয়েছিল। তখন সর্বনিম্ন মূল বেতন ছিল মাত্র ৮০ টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ছিল ৩,০০০ টাকা। অর্থাৎ অনুপাত ছিল ১:৩৭.৫, যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

তৃতীয় পে-কমিশন: সরকার এই ব্যবধান কমাতে পদক্ষেপ করায় অনুপাত কমে দাঁড়ায় ১:১৭.৯-এ (সর্বনিম্ন ১৯৬ টাকা, সর্বোচ্চ ৩,৫০০ টাকা)।

চতুর্থ ও পঞ্চম পে-কমিশন (সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সময়): ১৯৮৬ সালের চতুর্থ বেতন কমিশনে এই অনুপাত কমে হয় ১:১০.৭। এরপর ১৯৯৬ সালের পঞ্চম বেতন কমিশন এই ব্যবধানকে আরও কমিয়ে ১:১০.২-এ নিয়ে আসে (সর্বনিম্ন ২,৫৫০ টাকা, সর্বোচ্চ ২৬,০০০ টাকা)। একেই আজ পর্যন্ত সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বেতন কাঠামো মনে করা হয়।

ষষ্ঠ ও সপ্তমে ফের বাড়ল ফারাক: ষষ্ঠ বেতন কমিশনে অনুপাত বেড়ে হয় ১:১১.৪ এবং সপ্তমে তা আরও বেড়ে পৌঁছায় ১:১৩.৯-এ।

অষ্টম বেতন কমিশন থেকে কর্মচারীদের মূল দাবি কী?
এবার অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রাক্কালে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে কর্মচারী সংগঠনগুলো। বিশেষ করে, ‘ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস’ (FNPO)-এর মতো বড় সংগঠনগুলো জোরালো দাবি তুলেছে যে, এবার সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাত ১:৮ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে: সরকার যদি কর্মচারী সংগঠনগুলোর এই ১:৮ অনুপাতের দাবিটি মেনে নেয়, তবে অষ্টম বেতন কমিশন শুধু যে কর্মচারীদের বেতন বাড়াবে তা-ই নয়, বরং ভারতীয় রেল, ডাক বিভাগসহ সমস্ত কেন্দ্রীয় দপ্তরের নিম্নস্তরের কর্মীদের জীবনযাত্রার মান একধাক্কায় অনেকটা বদলে দেবে। আয়ের এই বিশাল বৈষম্য দূর করতে মোদী সরকার শেষ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *