শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার পথে চরম পরিণতি! তরতাজা যুবকের এই ১টি ভুলেই চিরতরে অন্ধকার হয়ে গেল পরিবার

সামান্য একটু তাড়াহুড়ো এবং সুরক্ষাবিধিকে বুড়ো আঙুল দেখানোর খামখেয়ালি যে কতটা মারাত্মক হতে পারে, তার এক নির্মম সাক্ষী থাকল বিহারের মুঙ্গের জেলা। বৃহস্পতিবার জামালপুর-কিউল রেললাইনের ধরহারা রেলস্টেশনে ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে ‘শর্টকাট’ পথ নিতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মৃত্যু হলো এক যুবকের। ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মাঝের সংকীর্ণ ফাঁকে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই পিষে যান তিনি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে মুহূর্তের মধ্যে স্তব্ধ হয়ে যায় গোটা রেল স্টেশন চত্বর।
মৃত যুবকের নাম রাহুল ওরফে দারোগি কোডা (২৮)। তিনি লক্ষীসরাই জেলার অভয়পুর থানা এলাকার তালি কোরাসি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
বারণ শোনেননি রাহুল, ঘটল চরম বিপর্যয়
পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রাহুল তাঁর শ্বশুরবাড়ি মুঙ্গেরের ধরহারা ব্লকের মানকোথিয়া গ্রামে যাচ্ছিলেন। গয়া-জামালপুর প্যাসেঞ্জার ট্রেনে চড়ে তিনি ধরহারা স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ট্রেন থেকে নামার পর স্টেশনের অন্য প্রান্তে যাওয়ার জন্য তিনি ফুট ওভারব্রিজ বা নির্দিষ্ট সুরক্ষাপথ ব্যবহার করতে চাননি। উল্টে সময় বাঁচাতে প্ল্যাটফর্মের কিনারা দিয়ে ট্রেনের পাশ ঘেঁষে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ঠিক তখনই আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রানিং ট্রেন এবং প্ল্যাটফর্মের মাঝের মরণফাঁদে পড়ে যান তিনি। ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই যুবক।
মৃতের আত্মীয় সঞ্জয় কোডা আক্ষেপের সুরে জানান, “রাহুলকে বারবার বলা হয়েছিল ফুট ওভারব্রিজ দিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ও কথা শোনেনি, পেছনের রাস্তা দিয়ে তাড়াতাড়ি বেরোনোর জেদ ধরেছিল। যদি ও কথা শুনত, তবে আজ এই মর্মান্তিক দিনটা দেখতে হতো না।”
স্টেশনে হুড়োহুড়ি, দেহ উদ্ধার করতে কালঘাম ছুটল পুলিশের
দুর্ঘটনাটি ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই ধরহারা রেল স্টেশনে তীব্র আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘটনাস্থলে শয়ে শয়ে মানুষের ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ছুটে আসে রেল পুলিশ (GRP) ও স্থানীয় প্রশাসন। ট্রেন এবং প্ল্যাটফর্মের মাঝখানের অত্যন্ত সরু জায়গায় রাহুলের দেহটি এমনভাবে আটকে গিয়েছিল যে, তা উদ্ধার করতে পুলিশ কর্মীদের দীর্ঘক্ষণ কসরত করতে হয়। অবশেষে ক্ষতবিক্ষত দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মুঙ্গেরের সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
অন্ধকারে ৮ বছরের সন্তানের ভবিষ্যৎ
রাহুলের এই অকাল ও আকস্মিক মৃত্যুতে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকারের ছায়া। শ্বশুরবাড়িতে আনন্দের বদলে এখন শুধুই কান্নার রোল। স্ত্রী সরিতা দেবী এবং মাত্র আট বছর বয়সী এক নিষ্পাপ পুত্রসন্তানকে রেখে চলে গেলেন রাহুল। উপার্জনের একমাত্র মানুষের এমন চলে যাওয়ায় পুরো গ্রাম এখন শোকগ্রস্ত।
রেল প্রশাসনের জরুরি বার্তা
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে যাত্রীদের সুরক্ষার্থে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। রেল কর্মকর্তাদের আবেদন—স্টেশন চত্বরে সর্বদা ফুট ওভারব্রিজ, সাবওয়ে বা নির্দিষ্ট রাস্তা ব্যবহার করুন। সামান্য সময় বাঁচাতে গিয়ে রেললাইন পার হওয়া বা চলন্ত ট্রেনের পাশে প্ল্যাটফর্মের কিনারা দিয়ে হাঁটা আত্মহত্যার শামিল। আপনার একটু অসতর্কতা আপনার গোটা পরিবারের সুখ কেড়ে নিতে পারে।